অবমুক্ত হলো চাষাড়া-২নং রেলগেইট সংযোগ সড়ক: ৪ মিনিটে চাষাড়া, নগরবাসীর স্বস্তি
দীর্ঘদিন নানা জটিলতায় বন্ধ থাকার পর অবশেষে জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সড়ক ‘চাষাড়া থেকে ২ নম্বর রেলগেইট সংযোগ সড়ক’। শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার বিকল্প এই পথটি চালু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চালক, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নগরবাসীর প্রত্যাশা, সড়কটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে শহরের দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট অনেকটাই কমে আসবে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সামনের অংশে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারছিল না। ফলে বাধ্য হয়ে রিকশা, মিশুক, ভ্যানসহ সব ধরনের ছোট যানবাহনকে বঙ্গবন্ধু সড়ক (বিবি রোড) ব্যবহার করে শহরে প্রবেশ ও বের হতে হতো। এতে শহরের মূল সড়কে গাড়ির চাপ বাড়ার পাশাপাশি যাত্রী ভোগান্তি ও সময়ের অপচয় হতো চরম।
নগরবাসীর এই ভোগান্তি দূর করতে গত ৯ জুন (মঙ্গলবার) নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে মহিলা কলেজের সামনে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সড়কটি অবমুক্ত করা হয়। অভিযানের পর বর্তমানে ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলোর ধ্বংসাবশেষ ও ময়লা-আবর্জনা এক্সকাভেটরের মাধ্যমে দ্রুত অপসারণের কাজ চলছে। তবে পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক রাস্তা ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ বাকি থাকায় সড়কটি এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি। ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরলে রাস্তার কার্যকারিতা আরও বাড়বে।
সড়কটি চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা। ২ নম্বর রেলগেইট থেকে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মো. পলাশ বলেন, “এই রাস্তাটা খোলায় সবার জন্যই খুব ভালো হইছে। বিবি রোড দিয়ে চাষাড়া আসতে আগে যানজটে আধা ঘণ্টাও লেগে যেতো, আর আজ এই দিক দিয়ে মাত্র ৪ মিনিটেই চলে আসলাম।”
মিশুকযাত্রী ও ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম নাসিক প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সড়কটি চালু করার। অবশেষে সেটি বাস্তবায়ন হয়েছে। সড়কটি আরও প্রশস্ত ও পুরোপুরি উন্নয়নকাজ শেষ হলে চলাচলের সুবিধা আরও বাড়বে।”
একই পথে যাতায়াতের সময় কথা হয় সামাজিক সংগঠন ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’র সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, “জনগণের স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি খুলে দেওয়ার জন্য সাখাওয়াত সাহেবকে (সিটি প্রশাসক) ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এটি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলাম।”
নাসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং যানবাহন ও পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের জনকল্যাণমুখী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।