নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ: শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জনসহ দগ্ধ ৫, অবস্থা আশঙ্কাজনক
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় একটি আবাসিক বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের চারজন এবং এক প্রতিবেশী শিশুসহ অন্তত পাঁচজন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকার একটি একতলা বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন— স্থানীয় একতা মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্দুল মান্নান (৫০), তার স্ত্রী সুলতানা (৩৫), তাদের দুই সন্তান মিম (১৩) ও সিয়াম (১৯) এবং প্রতিবেশী শিশু হযরত আলী (৮)। দগ্ধদের সবাইকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
কাঁচপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই কক্ষের ওই বাড়িটিতে আব্দুল মান্নানের পরিবার ভাড়া থাকতেন। ওই বাসায় তিতাসের গ্যাস লাইনের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডারের এলপি গ্যাসেরও সংযোগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে কোনো একটি লাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে পুরো রান্নাঘরে জমে ছিল। সকালে রান্নার জন্য আগুন জ্বালাতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
স্থানীয় চা দোকানি মো. অনিক জানান, সকালে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর ওই বাসায় আগুন ধরে যায়। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দগ্ধ অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করি এবং তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করি।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে সুলতানার শরীরের ৯০ শতাংশ, সিয়ামের ৭৭ শতাংশ, মিমের ৪১ শতাংশ, মান্নানের ৩০ শতাংশ এবং শিশু হযরত আলীর ৮ শতাংশ পুড়ে গেছে।
ডা. শাওন আরও বলেন, "হযরত আলীকে অবজারভেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে এবং বাকি চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধদের প্রত্যেকেরই শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় তাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।"
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, "আমরা ঘটনার বেশ কিছু সময় পর খবর পেয়ে সেখানে টিম পাঠাই। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রান্নার কাজে গ্যাসের দুটি উৎস (তিতাস ও এলপিজি সিলিন্ডার) পাওয়া গেছে। তবে লিকেজটি মূল লাইন নাকি সিলিন্ডারের লাইন থেকে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর বিস্ফোরণের প্রকৃত উৎস জানা যাবে।"