justice
যাত্রাবাড়ীতে হত্যা মামলা: শেখ হাসিনা ও শামীম ওসমানসহ নারায়ণগঞ্জের ৫৬ জোনের বিরুদ্ধে মামলা
যাত্রাবাড়ীতে হত্যা মামলা: শেখ হাসিনা ও শামীম ওসমানসহ নারায়ণগঞ্জের ৫৬ জোনের বিরুদ্ধে মামলা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গুলিতে নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ নারায়ণগঞ্জের ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
গত ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৪ এর নির্দেশে যাত্রাবাড়ী থানায় এই মামলাটি রেকর্ড করা হয় (মামলা নম্বর ৪০)। মামলার বাদী নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারী এলাকার বাসিন্দা মোসাঃ সেলিনা বেগম (৪০)।
ঘটনার বিবরণ মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ ঘটিকার সময় যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা টোল প্লাজা সংলগ্ন কাঁচাবাজারের সামনে এই ঘটনা ঘটে। বাদীর অভিযোগ, আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় এবং নির্দেশে বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি করা হয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়, যার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
আসামিদের তালিকা ও পরিচয় এজাহারে উল্লেখিত আসামিদের মধ্যে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। এজাহার ভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ: ১. শেখ হাসিনা - সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ২. মকসুদ হোসেন চেয়ারম্যান বন্দর উপজেলা। ৩. নিয়াজউদ্দিন বন্দর নারায়ণগঞ্জ।
ওসমান পরিবার (নারায়ণগঞ্জ): ৪. শামীম ওসমান - সাবেক সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-৪। ৫. সেলিম ওসমান - সাবেক সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-৫। ৬. অয়ন ওসমান - শামীম ওসমানের ছেলে। ৭. আজমেরী ওসমান - প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামি (এজাহার ক্রম অনুযায়ী):
নিয়াজ উদ্দিন আহাম্মেদ (ছাত্র আন্দোলনে অর্থ ও যোগান দাতা হিসেবে অভিযুক্ত), উত্তর চাষাড়া।
বাবু খন্দকার, নবীগঞ্জ।
শাওন সাহা, টান বাজার।
আবু সুফিয়ান, সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগ (নারায়ণগঞ্জ)।
শাহিন মিয়া (গিরিঙ্গি শাহীন), সহ-সভাপতি, ২৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ।
ফারুক তালুকদার, জুরাইন (স্থায়ী: বরিশাল)।
মোঃ বকতিয়ার আহমেদ (শিবু), রূপগঞ্জ।
চান মিয়া, বন্দর (খান বাড়ি)।
নয়ন সরদার, চিনারদী, বন্দর।
মোঃ সোহেল রানা, কাশিপুর।
আমিনুল, নবীগঞ্জ।
মোঃ রুবেল মিয়া (কুলু রুবেল), নবীগঞ্জ।
আঃ মান্নান ভুইয়া, পাঠানটুলি, সিদ্ধিরগঞ্জ।
রাজু (ইস্টান রাজু), নূরবাগ, বন্দর।
আল মামুন মির্জা, বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ নেতা, দেওভোগ।
মোঃ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ (ফতুল্লা)।
শাকিল, দেউলী, বন্দর।
রাজিব, দেউলী, বন্দর।
রুবেল, ত্রিবেনি কাইকারটেক, বন্দর।
মুন্না, কাইতাখালি, বন্দর।
মেরুন, কদম রসুল কলেজ সংলগ্ন, বন্দর।
মাকসুদ চেয়ারম্যান, মুসাপুর ইউনিয়ন।
শান্ত, মোল্লাবাড়ি, বন্দর।
আরিফ, বন্দর বাবুপাড়া।
মোঃ লুৎফর রহমান, বন্দর রেলী আবাসিক এলাকা।
সোহেল, মোল্লাবাড়ি, বন্দর।
মুকবুল মেম্বার, কলাগাছিয়া, বন্দর।
শফিউল্লাহ, ফুলহর, বন্দর।
জাকির হোসেন, নবীগঞ্জ ডিলার বাড়ি।
খোকন ভেন্ডার, নবীগঞ্জ ইসলাম বাগ।
মোঃ সোহেল, যুবলীগ কর্মী, ইসদাইর।
লোকমান হোসেন, যুবলীগ কর্মী, খানপুর।
হুমায়ুন কবির মৃধা, আওয়ামী লীগ নেতা, নবীগঞ্জ।
মোঃ জসিম উদ্দিন, খানপুর।
মোঃ ওমর ফারুক ডালিম, সিদ্ধিরগঞ্জ।
জুম্মান, সোনাকান্দা, বন্দর।
বাদল, সোনাকান্দা, বন্দর।
সাকা মিয়া, মুসাপুর, বন্দর।
নুরুজ্জামান, সভাপতি, বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।
আনিল, আজমেরী ওসমানের ক্যাডার হিসেবে উল্লেখিত, কাইতাখালি।
ওসমান, কদমতলী, বন্দর।
ড্রেজার আক্তার, বাগবাড়ী, বন্দর।
ড্রেজার মোহাম্মদ আলী, ইসলামবাগ, বন্দর।
রমজান, বাগবাড়ী, বন্দর।
তাপস চন্দ্র দেবনাথ, টানবাজার।
মনিরুজ্জামান মনির, মিনার বাড়ি, বন্দর।
ইমতিয়াজ ভূঁইয়া, পাঠানটুলি, সিদ্ধিরগঞ্জ।
উবায়দুল হক, নন্দীপাড়া।
আকরাম, ডিআইটি মার্কেট এলাকা।
মাসুম শেখ, ঢাকেশ্বরী, বন্দর।
কাজি জহির, আওয়ামী লীগ নেতা, বন্দর।
মোতালেব কনটেকটার, যুবলীগ কর্মী, বন্দর।
সোহেল রানা, চানমারি, চাষাড়া।
আইনি ধারা আসামিদের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১১৪, ১৪৭, ১৪৮, ১০৯, ৩০২ এবং ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা একই উদ্দেশ্যে প্ররোচনা দিয়ে বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা সংঘটন করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম ও খুন করে।