নারায়ণগঞ্জে হবে ১ হাজার শয্যার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার
নারায়ণগঞ্জে আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে অন্তত ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি ‘সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি মনে করেন, শ্রমিক অধ্যুষিত এই জেলার মানুষের জন্য বর্তমানে একটি মেডিকেল কলেজের চেয়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল বেশি প্রয়োজন।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘টিম খোরশেদ’-এর উদ্যোগে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের মানুষ একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন, যা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ক্যানসার, লিভার ও কিডনির জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য মানুষকে যেন আর কষ্ট করে ঢাকায় ছুটে যেতে না হয়, সে জন্যই নারায়ণগঞ্জে এই আধুনিক সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল গড়ে তোলা প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক উন্নয়নের দাবি জানালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি আপনাদের এই দাবির বিষয়ে জোরালোভাবে কথা বলবো। আগামী কয়েক বছরে দেশে ৭ থেকে ৮টি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার একটির কাজ শিগগিরই দৃশ্যমান হবে। এছাড়া চীনা সরকারের ঋণ সহায়তায় নীলফামারীতে আরও একটি ১ হাজার শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
দেশের স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তিনি আরও বলেন, “গত অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল জিডিপির প্রায় ০.৬৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে এটি বৃদ্ধি করে ৩ শতাংশ বা তারও বেশি করার পরিকল্পনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশে সাধারণ হাসপাতাল থাকলেও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার বড় ঘাটতি রয়েছে। নারায়ণগঞ্জে কেউ হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে ঢাকায় নেওয়ার পথেই অনেকে মারা যান। বিশেষায়িত হাসপাতাল হলে এই অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।”
‘টিম খোরশেদ’-এর প্রধান সমন্বয়কারী মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমাদ, যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, বিকেএমইএর সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধান এবং উইআর ভলেন্টিয়ারের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনুসহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।