এক বছরের বেশি কারাবাসের পর মুক্ত আইভী, দেওভোগের বাড়ির চারপাশে পুলিশের সিসিটিভি ক্যামেরা
এক বছরেরও বেশি সময় কারাবোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজের বাড়ি ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
গতকাল বুধবার (০৩ জুন) রাত সোয়া ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় তাঁর নিজ বাসভবন 'চুনকা কুটির'-এ পৌঁছান।
দীর্ঘদিন পর সাবেক মেয়রের ঘরে ফেরার খবরে আজ বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) সকাল ১১টা থেকেই চুনকা কুটিরে তাঁর কর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভিড় করতে শুরু করেন। আইভীর স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে তাঁর ভগ্নিপতি আব্দুল কাদির এবং সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনির এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক চাপ ও নিরাপত্তার কারণে বাড়িতে আসা লোকজনের সংখ্যা সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাড়ির চারপাশে পুলিশের সিসিটিভি ক্যামেরা:
আইভী দেওভোগের বাড়িতে ফেরার পরই চুনকা কুটিরের সামনে এবং আশেপাশের কয়েকটি স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে পুলিশ। সরজমিনে এলাকা ঘুরে এই নজরদারির চিত্র দেখা গেছে। নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, "এটি আমাদের নিজস্ব বিষয়।" কেন এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, "নিরাপত্তাসহ সার্বিক কারণে লাগানো হয়েছে।" তবে নজরদারির বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাঁকে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ের ৩টি হত্যা মামলা, ২টি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১২টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি একাধিকবার জামিন পেলেও নতুন নতুন মামলায় তাঁকে পুনরায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার পর তাঁর মুক্তির পথ সুগম হয়।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন।