বন্দরে প্রাক্তন স্ত্রীর সাথে পুনর্বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: যুবকের মাথায় রামদার কোপ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে এক যুবকের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে মো. সাইফুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বন্দর উপজেলার জাউতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আহত সাইফুল ইসলাম বন্দর কলাবাগ এলাকার মৃত আব্দুল জব্বার মাস্টারের ছেলে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার স্ত্রী মোছা. রাবেয়ার (৩৪) দীর্ঘ দিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর একপর্যায়ে স্থানীয় শাহী মসজিদ এলাকার রোহান (২৬) নামে এক যুবকের সঙ্গে রাবেয়ার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই ঘটনার জেরে প্রায় ছয় মাস আগে রাবেয়াকে তালাক দেন সাইফুল ইসলাম।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার সকালে সাইফুল ইসলাম জাউতলা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তার পথরোধ করে পরকীয়া প্রেমিক রোহান। সে সাইফুলকে প্রস্তাব দেয়, মোটা অঙ্কের টাকা দিলে প্রাক্তন স্ত্রী রাবেয়ার সঙ্গে পুনরায় তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। কিন্তু সাইফুল ইসলাম এই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তিনি আর রাবেয়ার সঙ্গে সংসার করতে ইচ্ছুক নন।
এই জবাব শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রোহান। তাৎক্ষণিকভাবে সে তার সহযোগী আব্দুল্লাহ (২৬), কামাল (৩৪) এবং আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। তারা লোহার এসএস পাইপ দিয়ে সাইফুল ইসলামের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
একপর্যায়ে রোহান হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ‘রামদা’ দিয়ে সাইফুল ইসলামের মাথায় কোপ দেয়। এতে তার মাথা কেটে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। সাইফুলের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফুল ইসলামকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহতের মাথায় গভীর ক্ষত থাকায় তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ জানান, ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।