বন্দরে পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র লুট মামলার আসামি ছিনতাইকারী মানিক গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি অস্ত্র লুটের চাঞ্চল্যকর মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি মো. মানিককে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত মানিক ওই এলাকার একজন চিহ্নিত ও পেশাদার ছিনতাইকারী।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বন্দর দক্ষিণ কলাবাগ এলাকার শাহজাহান মিয়ার বাড়ির সামনে থেকে ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মানিক দক্ষিণ কলাবাগ এলাকার মনির মিয়ার ছেলে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দক্ষিণ কলাবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। মানিকের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পুলিশ সদস্যরা ছদ্মবেশে সেখানে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে এসআই মাসুদ রানা কৌশলে মানিককে ঝাপটে ধরে আটক করেন। পরে সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় তাকে দ্রুত পুলিশের জিপে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার চৌধুরী বাড়ি এলাকায় একটি মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে একদল সন্ত্রাসীর তোপের মুখে পড়ে পুলিশ। সে সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে সরকারি অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা ওই মামলার অন্যতম প্রধান এজাহারভুক্ত আসামি এই মানিক।
পুলিশ আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মানিক ও তার চক্রের সদস্যরা দক্ষিণ কলাবাগ, ঝাউতলা এবং চৌধুরী বাড়ি এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। গভীর রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরা পথচারীদের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে মোবাইল, টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই করাই ছিল এই চক্রের মূল কাজ। অনেক ক্ষেত্রে ছিনতাইয়ে বাধা দিলে ভুক্তভোগীদের নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করারও একাধিক রেকর্ড রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। মানিকের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র লুটের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এই চাঞ্চল্যকর মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।