নারায়ণগঞ্জে রাসেল গার্মেন্টসে অস্থিরতা: জিএম গোলাম মোস্তফার অপসারণ ও ১৩/১ ধারা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকায় অবস্থিত রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা ‘রাসেল গার্মেন্টস’-এ চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। শ্রম আইনের ১৩(১) ধারায় কারখানা বন্ধ ঘোষণা এবং কর্মকর্তাদের ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও কর্মকর্তারা।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে কারখানার সামনে এবং চাষাঢ়া এলাকার প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এসময় আন্দোলনকারীরা জিএম গোলাম মোস্তফার পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবি জানান।
আন্দোলনকারীদের প্রধান ৩ দফা দাবি: ১. কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) গোলাম মোস্তফার অবিলম্বে পদত্যাগ। ২. অন্যায়ভাবে ছাঁটাইকৃত ৩১ জন কর্মকর্তাকে সসম্মানে চাকরিতে পুনর্বহাল করা। ৩. কারখানা কর্তৃপক্ষের জারি করা শ্রম আইনের ১৩/১ ধারার (নো ওয়ার্ক নো পে) নোটিশ প্রত্যাহার করে কারখানা খুলে দেওয়া।
ঘটনার বিস্তারিত: শ্রমিক ও আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই কারখানার জিএম গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন তারা। এর জেরে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ৩১ জন কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করা হয়। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কর্তৃপক্ষ গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা মোতাবেক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে। জিএম গোলাম মোস্তফা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ৩১ জন কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করেছেন। এখন ১৩/১ ধারা দিয়ে সাধারণ শ্রমিকদেরও বিপদে ফেলা হয়েছে। আমরা এই জিএম-এর অপসারণ চাই এবং অবিলম্বে কারখানা চালু চাই।”
আন্দোলনের ফলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ও চাষাঢ়া এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বরও শ্রমিকরা একই দাবিতে শহরের ১ নম্বর রেলগেট এলাকায় বিক্ষোভ করেছিলেন। তখন ১৯ দফা দাবির কথা বলা হলেও, বর্তমানে জিএম-এর অপসারণ এবং ছাঁটাইকৃতদের পুনর্বহালের বিষয়টিই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।