ফতুল্লায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা: খেলাফত মজলিস নেতাদের আসামি করার প্রতিবাদে উলামা পরিষদের মানববন্ধন
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় খেলাফত মজলিসের দুই নেতাকে আসামি করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে নারায়ণগঞ্জ উলামা পরিষদ।
বক্তাদের দাবি, নির্মম ওই মারধরের ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত না থাকলেও খেলাফত মজলিসের ওই দুই নেতাসহ স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের নির্দোষ নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে। মানববন্ধনে তাঁরা এই দুই নেতার নাম মামলা থেকে প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি রেল কলোনী জামে মসজিদের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর উলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি মামুন ফেরদাউসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহসভাপতি মুফতি আব্দুর রহিম ও মাওলানা নোমান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাহমুদুল হাসান কাসেমী, খেলাফত মজলিস মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ শাব্বীর আহমাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধ্যায় ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে স্থানীয় 'আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠন' কার্যালয়ের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মো. সিজান (২৫) ও অনিক (২৮) নামের দুই যুবককে গণপিটুনি দেওয়া হয়। মারধরে গুরুতর আহত সিজান পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পশ্চিম মাসদাইরের আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খেলাফত মজলিসের সদর থানা শাখার সাবেক সহসভাপতি মুফতি কাউছার আহাম্মেদ কাসেমী (৪০) এবং জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনিকে (৫০) আসামি করা হয়। তাঁরা দুজনেই আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।
মানববন্ধনে উলামা পরিষদের নেতারা দাবি করেন, "মুফতি আব্দুল গনী ও কাউছার আহাম্মেদ কাসেমীসহ আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই হত্যা মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। মাসদাইর এলাকায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও মাদকের বিরুদ্ধে আল-ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। গত ৪ জুলাই সিজানকে কেন্দ্র করে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তার সঙ্গে স্থানীয় ইমাম বা আলেমদের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই।"
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যাঁরা সমাজে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছেন, আজ তাঁদেরই পরিকল্পিতভাবে হত্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। আমরা সিজানের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।"
অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "সঠিক তদন্ত ছাড়া নিরীহ আলেম, ইমাম ও সমাজকর্মীদের হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা হলে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতা সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।"