মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সিদ্ধিরগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন
নিজেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের দুই ব্যবসায়ী হযরত আলী (বড়) ও হযরত আলী (ছোট)। তারা দাবি করেন, এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার কারণে তাদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নূর হোসেন মুন্না, মো. রওশন আলী ভূঁইয়া ও মিহালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে দুই ব্যবসায়ী জানান, তারা দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), এলজিইডি এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার অসংখ্য বড় বড় উন্নয়নমূলক কাজ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে তারা স্পষ্ট করে বলেন, ঠিকাদারি কাজের প্রয়োজনেই বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের পেশাগত যোগাযোগ করতে হয়েছে। এছাড়া সামাজিক ও আনুষ্ঠানিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কারণে অনেকের সঙ্গে সৌজন্যমূলক ছবি রয়েছে। তবে এসব যোগাযোগের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না এবং তারা কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। বর্তমানে তারা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে স্থানীয় একটি মসজিদ ও একটি স্কুল পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, একটি বিশেষ মহল ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও ঈর্ষাবশত তাদের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তোলা পুরনো ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কখনো তাদের বিগত সরকারের সহযোগী, আবার কখনো জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গভীর তদন্ত করছে। যদি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা থাকত, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তারা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সচেতন নাগরিক এবং গণমাধ্যমের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালনের উদাত্ত আহ্বান জানান।