নারায়ণগঞ্জে মাজারের উরশে ‘তৌহিদী জনতা’র বাধা, হাতাহাতি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় একটি মাজারের বার্ষিক উরশ ও বাউল গানের অনুষ্ঠানে কালেমাখচিত সাদা-কালো পতাকা হাতে একদল যুবকের বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মাজারের ভক্ত ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে বাধা দেওয়া যুবকদের হাতাহাতি হয়।
শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার গোলাকান্দাইল বাজার এলাকায় হযরত কলিমউদ্দিন শাহের মাজারে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কালেমা খচিত সাদা-কালো পতাকা হাতে একদল যুবক মাজারে প্রবেশ করে কার্যক্রম বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ সময় সেখানে থাকা সেচ্ছাসেবক ও ভক্তদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয় দিয়ে আসা যুবকরা পিছু হটেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দশক ধরে এই মাজারে হযরত কলিমউদ্দিন শাহের স্মরণে উরশের আয়োজন করা হচ্ছে। শনিবারও মাজারটিতে বার্ষিক উরশ উপলক্ষে বাউল গানের আয়োজন ছিল। রাতে তবারক (রান্না করা খাবার) বিতরণের সময় মোটরসাইকেলে করে একদল যুবক কালেমাখচিত সাদা-কালো পতাকা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে মাজারের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, কাউসার হোসেন সজল নামে এক যুবক ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও ঘটনাসংক্রান্ত একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউসার মাদরাসায় পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে ভুলতার গাউছিয়া মার্কেটে তার একটি আতর ও কালেমা খচিত পতাকা বিক্রির দোকান রয়েছে। তার বাবা রতন মিয়া ভুলতা পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন সোমবার দুপুরে বলেন, “শনিবার মাজারটিতে উরশ উপলক্ষে অনুষ্ঠান চলছিল। আয়োজনের শেষ দিকে তবারক বিতরণের সময় তৌহিদী জনতা পরিচয়ে কয়েকজন যুবক বাধা দেয়। পরে সেখানে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।”
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি। তবে অভিযোগ না পেলেও পুরো বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।