ফতুল্লায় পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ: অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত ৭, সড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত সাতজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ফতুল্লার পাগলা তালতলা এলাকায় অবস্থিত ‘নির্ঝর নিটওয়্যার লিমিটেড’ নামের একটি কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, যে ভবনটিতে কারখানাটি অবস্থিত, সেটির নিচে একটি মার্কেট এবং ঢাকা ব্যাংকের একটি শাখা রয়েছে।
আহতদের পরিচয়:
আহতরা সবাই ওই কারখানাটির কাটিং বিভাগের শ্রমিক। তাঁরা হলেন—অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিক খাদিজা বেগম (২০), সাবিনা বেগম, মোহাম্মদ শাহীন (২৫), জাকির হোসেন (২৫), মঞ্জু মিয়া (২৮), আরিফিন (২২) ও হৃদয় (২৭)।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও ক্ষোভ:
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের বরাতে পুলিশ জানায়, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও কারখানাটিতে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ার পর তৃতীয় তলায় অবস্থিত একটি বয়লার অতিরিক্ত হিটের (তাপ) কারণে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার আশেপাশের দেয়াল ও কাচের দরজা ভেঙে যায় এবং সেখানে কর্মরত সাত শ্রমিক আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার দীর্ঘদিনের পুরোনো বয়লারটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। এটি পরিবর্তনের জন্য মালিকপক্ষকে বেশ কয়েকবার অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।
সড়ক অবরোধ ও পুলিশের আশ্বাস:
ঝুঁকিপূর্ণ বয়লার পরিবর্তন না করা এবং ছুটির দিনেও কারখানা চালু রাখার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরোনো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আহতদের সুচিকিৎসার আশ্বাস দিলে দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান ফতুল্লা থানার পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির।
আইনগত ব্যবস্থা:
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, "আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"
দুর্ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারখানাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুন্নবী চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।