নারায়ণগঞ্জে জামায়াত আমীরকে ‘গার্ড অব অনার’ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা, যা বলছে পুলিশ
নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রচলিত সরকারি বিধিমালা ও প্রটোকল অনুসরণ করেই তাকে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে আসেন ডা. শফিকুর রহমান।
সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন। সেখানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) উপস্থিতিতে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।
বিরোধী দলীয় একজন নেতা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসে কেন রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও সম্মাননা পাবেন—এমন প্রশ্ন তুলে ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের একাংশ প্রশাসনের এই ভূমিকার সমালোচনা করে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন। অনেকেই মন্তব্য করছেন, এটি রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচি না হওয়ায় এই সম্মাননা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই বিষয়ে বক্তব্যের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।
তবে প্রটোকল প্রদানের বিষয়টি স্পষ্ট করে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত রয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে কারা ‘গার্ড অব অনার’ পাওয়ার যোগ্য। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে (যা মন্ত্রী পদমর্যাদার) ডা. শফিকুর রহমান সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। সেই সরকারি বিধি অনুযায়ীই তাকে এই সম্মাননা ও প্রটোকল নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পদধারীর ক্ষেত্রেও এই প্রটোকল প্রযোজ্য। বিষয়টি সম্পর্কে অনেকে পুরোপুরি অবগত না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করছেন।”
এদিকে সার্কিট হাউজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মাসদাইর ঈদগাহ মাঠের কর্মী সমাবেশে যোগ দেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকার দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের দিকে এগোচ্ছে।