ডেঙ্গু রোধে নারায়ণগঞ্জে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা কর্মসূচি শুরু
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারে নারায়ণগঞ্জে বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে র্যালি, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকা থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি জেলা পরিষদ সংলগ্ন সুগন্ধা খালে এসে পৌঁছালে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা খালটির খনন ও পরিষ্কার অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
প্রধান পদক্ষেপ ও নির্দেশনা
উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের অন্যান্য জেলার মতো নারায়ণগঞ্জেও বড় পরিসরে এই জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমের আগেই মানুষকে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।
কর্মসূচির মূল কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- লার্ভার উৎস ধ্বংস: যেসব স্থানে মশার লার্ভা জন্ম নেয়, সেগুলো চিহ্নিত করে পরিষ্কার রাখা হচ্ছে।
- পানি প্রবাহ নিশ্চিতকরণ: খাল ও ড্রেনের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে খনন ও পরিষ্কার অভিযান চলছে।
- কীটনাশক প্রয়োগ: লার্ভা ধ্বংসে প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে।
- যৌথ তদারকি: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও জেলার বিভিন্ন পৌরসভায়ও একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
নাগরিকদের প্রতি আহ্বান
ডিসি রায়হান কবির জোর দিয়ে বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
"ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়া দ্বিতীয় ধাপ। এর আগে মশার বংশবিস্তার রোধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।"
তিনি নাগরিকদের অনুরোধ জানান যেন বাসাবাড়ির ফুলের টপ, এসির জমে থাকা পানি, বাথরুম, ছাদ কিংবা বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমে না থাকে এবং চারপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা হয়।
আসছে বিশেষ পরিদর্শন টিম
জেলা প্রশাসক আরও জানান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির জন্য খুব শিগগিরই ছোট ছোট পরিদর্শন টিম গঠন করা হবে। এ বিষয়ে রাজউক এবং সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। এই টিমগুলো শহর, নগর ও মফস্বল এলাকাগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি চালাবে।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
- জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মুশিউর রহমান
- জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসমিন আক্তার
- জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ
- সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন
- জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব
- মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ
- জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন
- ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।