মহানগর
নারায়ণগঞ্জে কোরবানির ২২ পশুর হাটের ইজারা সম্পন্ন: নেপথ্যে বিএনপি নেতারা
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এলাকার ২২টি পশুর হাটের দরপত্র আহ্বান ও ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নাম ঘোষণা করেন।
তবে এবারের ইজারা প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইজারা পাওয়া প্রায় সব ব্যক্তিই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। কোনো কোনো হাটে সরাসরি দলীয় পরিচয় না থাকলেও নেপথ্যে বিএনপি নেতাদের জোরালো সমর্থন ও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ইজারা পেলেন যারা (উল্লেখযোগ্য হাটসমূহ):
দরপত্র অনুযায়ী নির্বাচিত ইজারাদারদের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
৫ নম্বর ওয়ার্ড: সাইলো রোড সংলগ্ন মোহর চান কনস্ট্রাকশন (মুক্তার হোসেন) এবং বটতলা বাদশা মিয়ার মাঠ (সিরাজুল ইসলাম)।
৬ নম্বর ওয়ার্ড: এসও রোড টার্মিনাল সংলগ্ন সালাউদ্দিনের খালি জায়গা (সিরাজুল ইসলাম)।
৭ নম্বর ওয়ার্ড: নাভানা সিটি ১ নম্বর মাঠ (সোহেল মিয়া)।
৮ নম্বর ওয়ার্ড: গোদনাইল ইব্রাহিম টেক্সটাইল মিলসের খালি মাঠ (মো. মমতাজ উদ্দিন)।
৯ নম্বর ওয়ার্ড: জালকুড়ি দক্ষিণ পাড়া মুক্তিযোদ্ধা মান্নান সাহেবের নতুন রোড (দেলোয়ার হোসেন), জালকুড়ি ওয়াপদা রোডের ডিএনডি খাল সংলগ্ন এলাকা (বাবুল প্রধান), এবং জালকুড়ি উত্তরপাড়া রাসেল গংদের খালি জায়গা (রফিকুল ইসলাম)।
১০ নম্বর ওয়ার্ড: চিত্তরঞ্জন খেলার মাঠ (আরমান হোসেন)।
১৮ নম্বর ওয়ার্ড: কড়ইতলা আলমাসের বাড়ির পূর্বপাশে (রাফি উদ্দিন রিয়াদ) এবং ডিয়ারা লুহিয়ার মাঠ (মো. আল্লামা ইয়াদগার)।
১৯ নম্বর ওয়ার্ড: শীতলক্ষ্যা ব্রিজের নিচের খালি জায়গা (নুর মোহাম্মদ পনেস) এবং পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন এলাকা (ফতেহ মোহাম্মদ রেজা)।
২০ নম্বর ওয়ার্ড: সোনাকান্দা মাঠের পশ্চিম পাশ (মো. আহমদ আলী) এবং ফরাজীকান্দা উত্তরপাড়া বালুর মাঠ (মো. রফিকুল হাসান)।
২২ নম্বর ওয়ার্ড: জহির কাজীর খালি জায়গা (পাম্বু আহমেদ)।
২৩ নম্বর ওয়ার্ড: কদমরসুল ডিগ্রি কলেজের পশ্চিম পাশের সিটি কর্পোরেশনের জায়গা (মো. আমিরুল ইসলাম বাবু)।
২৪ নম্বর ওয়ার্ড: নবীগঞ্জের গুদারাঘাট সংলগ্ন এলাকা (মাহাবুব রহমান) এবং আলতাফের খালি জায়গা (আব্দুল মান্নান শিকদার)।
২৫ নম্বর ওয়ার্ড: উত্তর লক্ষ্মণখোলা খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা (ইকবাল হোসেন)।
২৭ নম্বর ওয়ার্ড: মুরাদপুর এলাকার মোতালেবের বালুর মাঠ (মো. মোমেন মিয়া)।
ইজারা প্রক্রিয়া শেষে নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, পশুর হাটগুলোতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা নিয়মের ব্যত্যয় সহ্য করা হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, "যদি কোনো হাটে নিয়ম লঙ্ঘন বা গোলযোগ সৃষ্টি হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই হাটের ইজারা বাতিল করা হবে এবং প্রয়োজনে হাট উচ্ছেদ করা হবে।"
এছাড়াও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সানারপাড় লিপি গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকা, মৌচাক মাদানি নগর বালুর মাঠ এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টাইগার ওয়ার রি-রোলিং মিলস ও মনোয়ারা জুট মিলের উত্তর পাশের খালি জায়গায় হাটের ইজারা নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।