মহানগর
জামিন পেলেন আইভী: মুক্তির খবরে উচ্ছ্বাসে ভাসছে দেওভোগ
১০টি মামলায় জামিন পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কারামুক্তির পথ এখন আইনিভাবে পরিষ্কার।
তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জেল থেকে বের হতে এখন আর কোনো বাধা নেই। আর এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তার পৈতৃক নিবাস দেওভোগ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
দেওভোগবাসীর কাছে ডা. আইভী কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং এক আত্মার আত্মীয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকায় তার প্রতি সাধারণ মানুষের আবেগ অত্যন্ত গভীর। জামিনের খবর আসার পর থেকেই দেওভোগের অলিগলিতে খুশির আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, আইভী ফিরলে তাদের প্রিয় 'চুনকা কুটির' এবং পুরো এলাকা আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।
আইভীর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা মানুষের মুখে বারবার ফিরে আসছে গত বছরের সেই নাটকীয় গ্রেপ্তারের স্মৃতি। সে সময় তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ দেওভোগের বাসায় গেলে নজিরবিহীন প্রতিরোধের মুখে পড়েছিল। স্থানীয় নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও রাস্তায় বাঁশ, ইট ও বালু ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করেছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইভী নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি পালিয়ে যাবেন না এবং পরদিন সকালে স্বেচ্ছায় পুলিশের গাড়িতে উঠবেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরদিন সকালে বিদায় নেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন উপস্থিত হাজারো মানুষ।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী একটি প্রভাবশালী নাম। দীর্ঘ সময় মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে তার জনপ্রিয়তার ভিত্তি তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের আস্থার ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই কারামুক্তি নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা ও সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
তবে সব রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে এখন কেবলই অপেক্ষার পালা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আইভী কখন তার আপন ঠিকানা দেওভোগে ফিরবেন, এখন সেই প্রহর গুনছেন এলাকাবাসী। বাড়ির সামনে বাড়ছে উৎসুক মানুষের আনাগোনা, সবার চোখেমুখে এখন প্রিয় নেত্রীকে কাছে পাওয়ার আনন্দ।