নগরের বাইরে
ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণ: বোন ও বাবার পর মারা গেল শিশু মুন্নাও
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে সাত বছর বয়সী শিশু মুন্নাও প্রাণ হারিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশু মুন্নার শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মুন্নার পরিবারের এটি তৃতীয় মৃত্যু। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বুধবার সন্ধ্যায় মারা যায় মুন্নার যমজ বোন কথা (৭), যার শরীরের ৫২ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এর আগে গত সোমবার সকালে তাদের বাবা মো. কালাম (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল।
গত ১০ মে (রোববার) সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাদের তিন সন্তান দগ্ধ হন। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, কক্ষের ভেতরে তিতাস গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাস কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে আসায় এই বিস্ফোরণ ঘটে।
এই ঘটনায় দগ্ধ কালামের স্ত্রী সায়মা (৩২) এবং বড় মেয়ে মুন্নি (১০) বর্তমানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সায়মার শরীরের ৬০ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
একই পরিবারের একের পর এক সদস্যদের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার তদন্ত ও গ্যাস লিকেজের উৎস শনাক্তে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।