বর্ষার শুরুতেই নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধের আগাম প্রস্তুতি, মাঠপর্যায়ে কঠোর নাসিক
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই দেশজুড়ে ডেঙ্গুর আতঙ্ক ফিরে আসছে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতি মাথায় রেখে নারায়ণগঞ্জে আগাম ও সমন্বিত প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর (২০২৫ সালে) জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ২ হাজার ৩৮৫ জন, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। তবে চলতি বছরের ১৫ জুন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ১০ জন। এর মধ্যে আটজনই ইতিমধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত তুলনামূলক কম থাকলেও বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে কোনো ধরনের ছাড় দিতে নারাজ স্থানীয় প্রশাসন।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এ প্রসঙ্গে বলেন, "জেলার যেসব স্থানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে, সেগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে লার্ভা ধ্বংসে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।" তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো জেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)। নাসিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ওয়ার্ডভিত্তিক মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি এক সভায় নাসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "যে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি থাকবে, অবহেলার কারণে সেই ওয়ার্ডের সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যেসব ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী ও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সেসব ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্টদের পুরস্কৃত করা হবে।"
এদিকে সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়; এর জন্য ব্যাপক নাগরিক সচেতনতা প্রয়োজন। নিজেদের বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা বা আশপাশে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নগরবাসীকে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
বর্ষার শুরুতেই জেলা প্রশাসন ও নাসিকের নেওয়া এসব কঠোর ও আগাম উদ্যোগ নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এখনই সচেতনতা অবলম্বন করলে বড় ধরনের সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।