ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের ১৫০ বছর: ‘সতীর্থ-০১’ এর রজতজয়ন্তী ও গুরুবন্দনা
প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এক বিদ্যাপীঠের এসএসসি-২০০১ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সংগঠন “সতীর্থ-০১” এর ২৫ বছর পূর্তি (রজতজয়ন্তী) উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও শিক্ষাগুরুদের সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ৮টায় শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে একটি বর্ণিল র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ২ নম্বর রেলগেট ও ১ নম্বর রেলগেট অতিক্রম করে স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এতে ২০০১ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অংশ নেন।
র্যালি শেষে স্কুলের অডিটরিয়ামে এক আবেগঘন সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তৎকালীন সময়ের জীবিত শিক্ষকদের মধ্যে ১০ জনসহ মোট ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৮ জন শিক্ষক স্বশরীরে উপস্থিত থেকে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।
সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক নবদ্বীপ চন্দ্র দাস, প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, বর্তমান অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান ভুঁইয়া, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও তৎকালীন শিক্ষক আব্দুল ওহাব, বর্তমান সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আওলাদ হোসেন নোভেল, সিনিয়র শিক্ষক জহিরুল ইসলাম মোল্লা, সিনিয়র শিক্ষক বিষ্ণুপদ ভট্টাচার্য্য এবং সিনিয়র শিক্ষক গৌতম কুমার সাহা।
এছাড়া সম্মাননা প্রদান করা হয় সিনিয়র শিক্ষক ফজলুল হক, প্রাক্তন সহকারী প্রধান শিক্ষক কমলকান্তি সাহা এবং প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক মুজিবুল হক কবীরকে। অনুষ্ঠানে প্রয়াত সিনিয়র শিক্ষক মনোজ কুমার অধিকারীর পক্ষে তাঁর দুই কন্যা— মানসি অধিকারী ও মনিষা অধিকারী সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রাক্তন ছাত্র ও শিক্ষকদের স্মৃতিচারণে পুরো অডিটরিয়ামজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ২৫ বছর পর প্রিয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন অনন্য সম্মাননা ও ভালোবাসা পেয়ে শিক্ষকেরাও অশ্রুসিক্ত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, প্রিয় বিদ্যাপীঠের গৌরবময় ১৫০ বছরের ইতিহাস এবং তাঁদের নিজেদের ২৫ বছরের এই পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই ‘গুরুবন্দনা’ ও রজতজয়ন্তীর আয়োজন। আগামীতেও তাঁদের এই মেলবন্ধন ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।