মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে নারায়ণগঞ্জে ঈদুল আজহা উদযাপন
সারাদেশে আগামী জুন মাসে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের প্রস্তুতি চললেও, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি এলাকায়।
আজ বুধবার (২৭ মে) উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ ও কোরবানি সম্পন্ন হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শত শত মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন।
সকাল ৯টায় ফতুল্লায় মূল জামাত
আজ বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় অবস্থিত শাহ সুফি মমতাজিয়া মোহাম্মদীয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সকাল থেকে বৃষ্টি থাকলেও শিশু, কিশোর ও বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মুসল্লিদের ভিজে ভিজে মসজিদে আসতে দেখা যায়। নামাজকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় এক আনন্দঘন ও ধর্মীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ঈদের এই বিশেষ জামাত ও খুতবা পরিচালনা করেন মসজিদের খতিব মাওলানা শাহাবুদ্দিন। নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পারস্পরিক কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানির পশু জবাই করেন।
সোনারগাঁয়েও ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত
ফতুল্লার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের একটি অংশেও আজ একই নিয়মে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন স্থানীয় অনুসারীরা। তারা প্রতি বছরই অগ্রিম রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
'সৌদি আরব নয়, বৈশ্বিক চাঁদ দেখাই মূল ভিত্তি'
অনেকের ধারণা এই মুসল্লিরা কেবল সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেন। তবে এই বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফতুল্লার শাহ সুফি মমতাজিয়া মোহাম্মদীয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. মুর্শিদ তুহিন।
তিনি বলেন,
"সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারণা আছে যে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ করি। আসলে বিষয়টি তেমন নয়। আমরা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে পবিত্র চাঁদ দেখার সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রোজা এবং ঈদ উদযাপন করি। বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করা আমাদের প্রধান ভিত্তি।"
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পেরে আনন্দিত। বিকেল পর্যন্ত কোরবানি ও ঈদের আনন্দ উদযাপনে মুখর ছিল সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো।