সোনারগাঁয়ে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস!
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় চলতি মাসের পূর্ণাঙ্গ বেতন ও অর্জিত ছুটির পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের দুপাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরাতে কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে উপজেলার ত্রিপরদী এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালামের মালিকানাধীন ‘চৈতি কম্পোজিট লিমিটেড’ কারখানার সামনে এই ঘটনা ঘটে।
শিল্প পুলিশ-৪ এর পরিদর্শক (গোয়েন্দা) আনোয়ারুল হক জানান, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মহাসড়কটি অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কারখানার শ্রমিকরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ তৎপরতায় এবং কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা রাবার বুলেট ছুড়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরাতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে দাবি করেছে পুলিশ।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ জানান, শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়ার পরও দীর্ঘ যানজটের কারণে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত আধা ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
কারখানার শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চৈতি কম্পোজিট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ চলতি মে মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধ করেছিল। কিন্তু শ্রমিকরা পুরো মাসের বেতন ও তাদের অর্জিত ছুটির বকেয়া টাকা পরিশোধের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন। আজ সকালে শ্রমিকরা পূর্ণ বেতন ও বকেয়া পাওনার দাবিতে কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে দুপুরের দিকে তারা কারখানার সামনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নেমে এসে অবস্থান নেন এবং অবরোধ তৈরি করেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে নিট পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র (BKMEA) ওয়েবসাইটে দেওয়া কারখানার মালিক ও সংসদ সদস্য আবুল কালামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বিকেলে জানান, মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল এখন স্বাভাবিক।