ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা: মন্ডলপাড়া পুলে ‘চাঁদ রাতে’ সরঞ্জামের চড়া দাম, ঘাটে ঘাটে টোল আদায়ের অভিযোগ
মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। নারায়ণগঞ্জে ধুমধাম করে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের ‘চাঁদ রাতের’ প্রস্তুতি। কোরবানি করা পশুর মাংস কাটার জন্য কাঠের গুঁড়ি (খাইট্টা), পাতি ও চাকু-ছুরির মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে প্রতিবছরের মতো এবারও শহরের মন্ডলপাড়া পুলের ওপর ভিড় জমিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
তবে একদিকে বৈরি আবহাওয়া ও বৃষ্টির হানা, অন্যদিকে চারারগোপ থেকে চড়া দামে সরঞ্জাম কেনার কারণে এবার জিনিসপত্রের দাম যেমন চড়া, তেমনি বেচাকেনাও অন্যান্য বছরের চেয়ে কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
আবহাওয়া ও বাড়তি দামের প্রভাব
দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে মন্ডলপাড়া পুলে গুঁড়ি বিক্রি করছেন শফিক ভূঁইয়া। প্রতিবছরই কোরবানির ঈদে মৌসুমী ব্যবসায়ী হয়ে যান ১ নম্বর বাবুরাইল এলাকার এই বাসিন্দা। তিনি মূলত গাছের গুঁড়ি ও পাতি বিক্রি করেন। বেচাকেনার পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, "অন্যান্য বছর আল্লাহর রহমতে ভালোই বেচাকেনা থাকে। তবে এবার ক্রেতা আগের চেয়ে কিছুটা কম। বৃষ্টি আর প্যাকের (কাদা) কারণেই মূলত এবার মানুষ একটু কম আসছে।"
তিনি জানান, এবার খাইট্টাগুলো আকারভেদে ১৬০, ২০০ ও ২৩০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছেন। তবে এবার পাইকারি বাজারেই তার কিনতে হয়েছে একটু বেশি দামে।
চারারগোপেই দাম চড়া
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মন্ডলপাড়া পুলে বিক্রি হওয়া এই কাঠের গুঁড়িগুলোর মূল জোগান আসে শহরের চারারগোপ এলাকা থেকে। সেখান থেকে চড়া দামে মাল কিনতে হওয়ায় এখানে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মোহাম্মদ মাহফুজ নামের আরেক বিক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, "গতবার যে কাঠের গুঁড়ি চারারগোপ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছিলাম, এবার সেটা কিনতে হয়েছে ৮০০ টাকায়। কেনা দামই যদি এত বেশি পড়ে, তাহলে আমরা কম দামে বেচব কেমনে?"
ক্রেতাদের ক্ষোভ
বাজারের এমন চড়া দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। মন্ডলপাড়া পুলে সরঞ্জাম কিনতে আসা হানিফ নামের এক ক্রেতা বলেন, "গতবার পাতি ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে কিনেছিলাম, এবারও ২৫০ টাকা দিয়েই কিনতে হলো, কোনো কম পেলাম না। আর মাংস কোপানোর জন্য যে কাঠের গুঁড়ি গতবার ২০০ টাকায় নিয়েছিলাম, এবার সেটার দাম আরও বেশি নিল।"
পুলের ওপর সিটি কর্পোরেশনের পোশাকে 'টোল' আদায়
এদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মন্ডলপাড়া পুলে মালবাহী যানবাহন থেকে প্রকাশ্যেই টাকা তোলা হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের পোশাক পরিহিত মোহাম্মদ মিন্টু মিয়া নামের এক ব্যক্তি পুলের ওপর দিয়ে যাওয়া বড় ট্রাক থেকে ৪০ টাকা, মাঝারি পিকআপ ভ্যান থেকে ৩০ টাকা এবং মালপত্র থাকা ছোট অটো রিকশাগুলো থেকে ২০ টাকা করে টোল আদায় করছেন।
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, মাল আনার পথে ঘাটে ঘাটে এভাবে টাকা দিতে হওয়ার কারণেই মূলত জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। যদি এই চাঁদাবাজি ও বাড়তি টোল আদায় বন্ধ করা যেত, তবে ঈদের বাজারে সাধারণ মানুষকে এত বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হতো না।