নারায়ণগঞ্জে কোরবানির হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের মহোৎসব, নির্বিকার ইজারাদাররা
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কয়েকটি কোরবানির পশুর হাটে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ক্রেতা ও বেপারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার পাশাপাশি গরু ওঠানো-নামানোর নামেও অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাটে আসা ক্রেতা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পশুর বেপারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি হাটে প্রকাশ্যেই এই অনিয়ম চলছে। এর মধ্যে কাশীপুর ইউনিয়নের ওরিয়ন পাওয়ার-প্ল্যান্ট সংলগ্ন মামুন সাহেবের নিজস্ব বালুর মাঠের পশুর হাট, গোগনগর ইউনিয়নের আওয়ালের গুদারাঘাট সংলগ্ন খালি জায়গার হাট এবং ডিক্রিরচর খেয়াঘাট সংলগ্ন বালুর মাঠের হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বিক্রিত পশুর মূল্যের বিপরীতে ৫ শতাংশ হাসিল আদায়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু কাশীপুর হাটের ইজারাদার ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল ইসলাম লাভলু, গোগনগরের ইজারাদার লিটন মিয়া এবং ডিক্রিরচর হাটের ইজারাদার আব্দুর রহমানের লোকজন ক্রেতাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ বা তারও বেশি হারে হাসিল আদায় করছেন।
শুধু তাই নয়, হাটে পশু প্রবেশ করানো এবং বিক্রি শেষে ট্রাকে বা গাড়িতে ওঠানোর সময়ও পশুর মালিক ও ক্রেতাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত হারের বাইরে এই যে লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে, তার কোনো অংশই সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না। ফলে ইজারাদার ও হাট পরিচালনাকারীরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেও সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সাথে সাধারণ ক্রেতারা বাড়তি আর্থিক খড়গের শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাশীপুরের হাটের ইজারাদার বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম লাভলুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “ভৌগোলিক বিবেচনায় কেবল দুর্গম এলাকার হাটের ক্ষেত্রে ৬ শতাংশ পর্যন্ত হাসিল নেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু সদর উপজেলার প্রতিটি হাটে আমরা স্পষ্ট ৫ শতাংশ হারে হাসিল গ্রহণের অনুমোদন দিয়েছি। এর বাইরে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও জানান, “অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠে আমাদের টিম কাজ করবে।”