শিল্পখাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা থাকতে হবে: গোলাম সারোয়ার সাঈদ
আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের মানুষ আগামী অর্থবছর কেমন বাজেট চান, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা। এরই ধারাবাহিকতায় 'কেমন বাজেট চাই' শীর্ষক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, ঢাকা সাউথ জোনের সেক্রেটারি গোলাম সারোয়ার সাঈদ।
তিনি বলেন, "একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমি চাই আগামী অর্থবছরের বাজেটে শিল্পখাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা থাকতে হবে।"
বাজেট নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর তাগিদ
গোলাম সারোয়ার সাঈদ বলেন, এক বছর পরে রাষ্ট্রের অগ্রগতি কতটুকু হবে এবং দেশের জনগণের জীবনমানের উন্নতি কতটুকু হবে, তার এক্সিকিউটিভ প্ল্যান হচ্ছে বাজেট। কিন্তু বাজেট আসলে আমরা বরাবরই কোন জিনিসের দাম বাড়বে আর কোন জিনিসের দাম কমবে, তা নিয়ে আলোচনা করি। আমাদের আলোচনা কেবলই ট্যাক্স কত বাড়লো আর কত কমলো তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু বাজেটে সামগ্রিকভাবে শিল্প-বাণিজ্য নীতিমালা বা সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। প্রথম দেড় বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করবে—এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। কাজেই এই কর্মসংস্থানের জন্য তাদের বাস্তবমুখী বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। যেহেতু সরকার সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি করে না, কর্মসংস্থানের মূল কেন্দ্র হলো প্রাইভেট সেক্টর, কাজেই এই বাজেট হতে হবে শিল্প বান্ধব।
সংকটে শিল্পখাত ও ব্যাংকিং সেক্টরের ভূমিকা
দেশের বর্তমান শিল্প পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে এই ব্যবসায়ী নেতা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান:
- টেক্সটাইল মিল: বিটিএমএ-এর হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের অভাবে বিগত দুই বছরে প্রায় অর্ধশতাধিক টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়েছে।
- গার্মেন্টস সেক্টর: বিকেএমইএ-এর হিসাব অনুযায়ী, বন্ধ হয়েছে দুই শতাধিক গার্মেন্টস।
- এসএমই সেক্টর: বিগত বছরে এসএমই সেক্টরের প্রবৃদ্ধি কমেছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর অন্যতম প্রধান কারণ সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য বান্ধব নীতিমালার অভাব এবং ব্যাংকিং সেক্টরের অসহযোগিতা। ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের অভাবে যখন একের পর এক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছিল, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক এক নির্দেশনার মাধ্যমে আউটস্ট্যান্ডিংয়ের ২% জমা দিয়ে লোন রিসিডিউলের নির্দেশনা দেয়। অন্যদিকে এসএমই খাতের সাথে ব্যাংকের আচরণ আরও বেশি নেতিবাচক। দেশে প্রায় এক কোটি এসএমই প্রতিষ্ঠান সক্রিয়, যার মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ ব্যাংকিং সুবিধা পেয়ে থাকে।
বাজেটে গোলাম সারোয়ার সাঈদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা
আগামী বাজেটকে কেন্দ্র করে তিনি সরকারের কাছে কিছু দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেন:
১. বিশেষ প্রণোদনা ও তহবিল: বাজেটে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ প্রণোদনার আওতায় বন্ধ ও সংকটাপন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপারেশনে একটিভ রাখা দরকার। সেই সাথে এসএমই খাতের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করে এই সেক্টরকে আরও প্রসারিত করা উচিত। এর ফলে বন্ধ কলকারখানা আবার চালু হয়ে হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান হতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
২. ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু: ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন করা এবং প্রতিবছর তা রিনিউ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই কাজে উদ্যোক্তারা প্রচুর হয়রানির শিকার হন এবং অর্থের অপচয় হয়। তাই দীর্ঘদিন ধরে সকল ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল—এই সেবা খাতগুলোকে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের আওতায় নিয়ে আসা। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শাখা খুব সহজেই ব্যবসায়িক খাত ভিত্তিক ওয়ানস্টপ সার্ভিসের আওতায় আনা সম্ভব। এবারের বাজেটে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিলে দেশের ব্যবসায়ী সমাজ দারুণভাবে উপকৃত হবে।