মহানগর
ব্যাংকগুলোর বৈরী আচরণে বাড়ছে শ্রম অসন্তোষ: নাসিক প্রশাসক
বাংলাদেশ শ্রম অসন্তোষ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান রুগ্ণ হয়ে পড়ার পেছনে ব্যাংকগুলোর নেতিবাচক ভূমিকাকে দায়ী করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
রোববার (১০ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ও ছুটি প্রদানের লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়।
সাখাওয়াত হোসেন খান অভিযোগ করেন যে, কোনো প্রতিষ্ঠানের এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) বিদেশি বায়ারদের কারণে সামান্য বিলম্বিত হলেই ব্যাংকগুলো অসহযোগিতা শুরু করে। তিনি বলেন:
"ব্যাংকগুলো মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং ক্লাসিফায়েড করে ফেলে। শিল্পকে বাঁচাতে হলে ব্যাংকগুলোর এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।"
কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী এক বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখা এবং নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন নাসিক প্রশাসক।
সভায় জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জে মোট ২ হাজার ৭২২টি শিল্পকারখানা রয়েছে।
গত ঈদে মাত্র ২৭টি কারখানায় কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল।
সরকার এবার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে, যার প্রমাণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা, সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
সাখাওয়াত হোসেন খান স্পষ্ট জানান যে, প্রশাসন দিয়ে নয় বরং মালিক-শ্রমিক আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চান তিনি। বিকেএমইএ (BKMEA) এবং বিজিএমইএ (BGMEA) নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন:
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
২৮ তারিখ পর্যন্ত পর্যাপ্ত সময় আছে, এর মধ্যেই বেতন-বোনাস সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করতে হবে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সুযোগ না দিয়ে নিজেদের নেতৃত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন:
আজহারুল ইসলাম মান্নান সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-৩
নজরুল ইসলাম আজাদ সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-২
অধ্যাপক মামুন মাহমুদ প্রশাসক, জেলা পরিষদ
মোহাম্মদ হাতেম সভাপতি, বিকেএমইএ
তারেক আল মেহেদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
এছাড়াও সভায় জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সকলেই আসন্ন ঈদে শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।