নগরের বাইরে
ফতুল্লায় রিয়া গোপসহ ১০ হত্যা: শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় শিশু রিয়া গোপসহ ১০ জনকে হত্যার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
বুধবার (১৩ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আসামিদের অনুপস্থিতিতে এই অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত শামীম ওসমানসহ পলাতক সকল আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত আগামী ১০ জুন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য (Opening Statement) উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় পৃথক সহিংস ঘটনায় ১০ জন নিহত হন। এর মধ্যে বহুতল ভবনের ছাদে খেলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে শিশু রিয়া গোপের মৃত্যু দেশজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।
মামলায় শামীম ওসমান ছাড়াও তার ছেলে অয়ন ওসমান এবং ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে:
আন্দোলন দমনে আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান, যার ফলে ১০ জন প্রাণ হারান এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন।
ঘটনার সময় শামীম ওসমান তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। প্রসিকিউশন পক্ষ এই সংক্রান্ত কল রেকর্ড ও সিডিআর (CDR) তথ্য প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে।
সহিংসতা কেবল ফতুল্লা বা শহর এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা সিদ্ধিরগঞ্জ ও চিটাগং রোড পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বিচার কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ইতিহাসে এই মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।