মহানগর
'শিশুশ্রম নিরসনে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি': নারায়ণগঞ্জে সেমিনার অনুষ্ঠিত
নারায়ণগঞ্জ জেলায় শিশুশ্রম নির্মূল এবং এ সংক্রান্ত সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে 'শিশুশ্রম নিরসনে করণীয়' শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত উপসচিব জনাব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ। এতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রায়হান কবির।
সেমিনারে শিশুশ্রম রোধে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতিমালা এবং বাস্তবায়নাধীন পদক্ষেপগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিশুশ্রম একটি বড় বাধা এবং এটি নিরসনে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং এর পেছনে থাকা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো চিহ্নিত করা আবশ্যক।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জনাব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ তার বক্তব্যে বলেন, "শিশুশ্রম একটি জাতীয় সমস্যা। সরকারের পক্ষ থেকে শিশুশ্রম নিরসনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করতে হবে যাতে প্রতিটি শিশু যেন ঝরে না পড়ে এবং শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।"
জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রায়হান কবির সমাপনী বক্তব্যে বলেন, "নারায়ণগঞ্জের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রেক্ষাপটে শিশুশ্রম নিরসনে জেলা প্রশাসন অত্যন্ত সজাগ। আমরা স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করছি। পাশাপাশি ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে স্থানীয় শিল্পমালিক ও এনজিওগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন।"
সেমিনার থেকে শিশুশ্রম নিরসনে নিম্নোক্ত সুপারিশসমূহ উঠে আসে:
সচেতনতা বৃদ্ধি: শিশুশ্রমের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে নিয়মিত সচেতন করা।
শিক্ষার সুযোগ: স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে পুনরায় শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনা।
মনিটরিং: কলকারখানা ও কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত পরিদর্শনের হার বাড়ানো।
সমন্বিত প্রচেষ্টা: সরকারি দপ্তর, বেসরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা।