মহানগর
নারায়ণগঞ্জের সাত খুন: ১২ বছরেও রায় কার্যকর না হওয়ায় স্বজনদের আর্তনাদ ও মানববন্ধন
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনার বিচার পাওয়ার আশায় ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত রায় কার্যকর না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ, শঙ্কা ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
দ্রুত রায় কার্যকরের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন করেছেন তারা।
সোমবার (২৭ এপ্রিল, ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও স্থানীয়রা সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপহরণের পর সাতজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে তাদের মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার সবকিছু প্রমাণিত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে রায় কার্যকর না হওয়ায় ন্যায়বিচার এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
মানববন্ধনে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন:
শামসুন্নাহার আক্তার নুপুর (নিহত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী): “আমার মেয়ে জন্মের পর থেকেই বাবাকে দেখেনি। অন্যদের বাবাকে দেখে সে কাঁদে। কিন্তু যারা তাকে এতিম করেছে, তাদের শাস্তি এখনো চোখে দেখলাম না।”
সেলিনা ইসলাম বিউটি (নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী): “সবকিছু প্রমাণিত হওয়ার পরও রায় কার্যকর হচ্ছে না। আমরা দ্রুত বিচার বাস্তবায়ন চাই।” তিনি এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
আবুল খায়ের (নিহত তাজুল ইসলামের বাবা): চরম হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জীবদ্দশায় বিচার দেখে যেতে পারবো কিনা, সেটাও সন্দেহ।”
দীর্ঘ একযুগের প্রতীক্ষা শেষে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন আর কোনো অজুহাত শুনতে চায় না। মানববন্ধনে উপস্থিত স্বজনরা জানান, তারা প্রতিনিয়ত এক অদৃশ্য শঙ্কার মধ্যে বসবাস করছেন। দ্রুত রায় কার্যকর করে তারা সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন নির্মমতার শিকার হতে না হয় এবং বিচার পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর রাজপথে দাঁড়াতে না হয়।