মনোনয়ন বাতিল নিয়ে ভুয়ো দাবি বনাম বাস্তবতা — যাচাই-বাছাই করে রেফারেন্স সহ নিউজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীদের মনোনয়ন বেশি বাতিল করা হয়েছে এবং ‘প্রশাসন বিএনপির পক্ষে কাজ করছে’—এ ধরনের অভিযোগ ভারী হারে শেয়ার হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের যাচাইযোগ্য রিপোর্ট দেখালে বাস্তব চিত্র আলাদা।
বাতিল ও বৈধ হওয়ার সারাদেশের চিত্র
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৩০০টি আসনে ২,৫৬৮টি মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে—
১,৮৪২টি মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে
৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে — যা মোট প্রার্থীর প্রায় ২৮%।
এতে বোঝা যায় একটি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ হলফনামা, স্বাক্ষরের ভুল ইত্যাদি কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যা নির্বাচন আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
দলভিত্তিক বাতিলের বাস্তব পরিসংখ্যান
একটি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে মনোনয়ন বাতিলের সংখ্যা দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়—
- জাতীয় পার্টি – ৫৯ জন
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ – ৩৯ জন
- বিএনপি – ২৫ জন
- সিপিবি – ২৫ জন
- জামায়াতে ইসলামী – ১০ জন
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) – ৩ জন
- স্বতন্ত্র প্রার্থী – ৩৩৮ জন (সবচেয়ে বেশি)
এই রেশিও স্পষ্টভাবে দেখায় যে মনোনয়ন বাতিলের হার জামায়াত ও এনসিপির তুলনায় জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি।
সরকার বা প্রশাসন “বেছে বেছে” কোনো দলকে টার্গেট করছে—এ ধরণের অভিযোগ ইসি বা সরকারি কোনো উৎস থেকে সত্য প্রমাণিত নয়। বরং বিভিন্ন যাচাইকৃত সংবাদে বলা হয়েছে, মনোনয়ন বাতিলের পেছনে নির্দিষ্ট আইনি কারণ রয়েছে—যেমন স্বাক্ষরের গরমিল, তথ্য ভুল, নাগরিকত্ব বা অপরাধ সংক্রান্ত অনুপস্থিতি।
জামায়াত-এর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও তাদের নিজস্ব বিবৃতিতে বলেছেন যে কিছু রিটার্নিং অফিসারের প্রক্রিয়া নিয়ে তুচ্ছ বা আইনি ব্যাখ্যার আলোকে বিতর্ক হয়েছে, কিন্তু তা নির্বাচন কমিশনের নীতির বিপরীতে রাজনৈতিক ইন্ধনে করা হচ্ছে—এই দাবি নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে বলা হয়েছে, সরকারি তথ্য নয়।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা
৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
আপিল নিষ্পত্তির কাজ চলবে ১০–১৮ জানুয়ারি।
এরপর ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
সারাদেশের হিসাব অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এ ধরনের তথ্য সরকারি বা ইসি থেকে প্রমাণিত হয়নি।
সত্য হলো, মনোনয়ন বাতিলের সংখ্যা বিভিন্ন দলের জন্য ভিন্ন, এবং সবচেয়ে বেশি আছে স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে।
তাই জনগণের মধ্যে ভুয়ো দাবি ছড়িয়ে দেওয়া বা দাবিকে সততা ছাড়া সম্প্রচার করা নির্বাচনের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং বাস্তব তথ্যের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।