আদমজীনগরে স্কুলছাত্রী স্বপ্না হত্যার ২ বছর: খুনিরা এখনো অধরা, বিচারের দাবিতে বাবা-মায়ের সংবাদ সম্মেলন
সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগরে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী স্বপ্না হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ দুই বছর পার হলেও এখনো শনাক্ত হয়নি প্রকৃত হত্যাকারীরা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার ও খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বপ্নার অসহায় মা-বাবা। দীর্ঘ সময়েও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় চরম হতাশা ও বিচারহীনতার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। একই সাথে তদন্তের নামে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকেই হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এই অভিযোগ করেন স্বপ্নার পরিবার।
নিখোঁজ ও বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগর এমডব্লিউ স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী স্বপ্না বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে সে বাসায় ফিরে আসে। তবে এর পরপরই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় স্বপ্না।
নিখোঁজের দুদিন পর, ২ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরনের স্কুল ড্রেস দেখে স্বপ্নার মরদেহ শনাক্ত করেন তার বাবা মোহাম্মদ খোকা।
ভুক্তভোগী পরিবারকেই ‘মানসিক হয়রানি’র অভিযোগ
স্বপ্নার পরিবারের অভিযোগ, লাশ উদ্ধারের দিন সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) শওকত জামিল জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে স্বপ্নার মা-বাবাকে থানায় নিয়ে যান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় মানসিক হয়রানি করা হয়। পরে শনিবার দুপুরে তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হলে, ওইদিন সন্ধ্যায় স্বপ্নার মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে মেলেনি অগ্রগতি
হত্যাকাণ্ডের পর মামলাটির রহস্য উদঘাটনে প্রথমে র্যাব-১১ এবং পরবর্তীতে সিআইডি (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপরাধ তদন্ত বিভাগ) তদন্তের দায়িত্ব পায়। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর পার হয়ে গেলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। অন্ধকারেই রয়ে গেছে ক্লু, ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে প্রকৃত খুনিরা।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বপ্নার মা বলেন, “একজন মা হিসেবে আমি আজও আমার মেয়ের হত্যার বিচার পাইনি। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও বিচারহীনতার যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর তদন্তের নামে আমাদের মতো নিরপরাধ পরিবারকে থানায় নিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।”
তিনি স্বপ্না হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত দাবি করেন এবং দ্রুত প্রকৃত খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।