বাতিলের পর আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন রেজাউল করিম
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ–সোনারগাঁ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিমের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানি শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
সোমবার (তারিখ অনুযায়ী) নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। এর ফলে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী মাঠে ফের সক্রিয় হলেন রেজাউল করিম।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রেজাউল করিমের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা কাগজপত্রে কিছু কারিগরি ও তথ্যগত অসংগতি থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
বিশেষ করে—
-
হলফনামার কিছু অংশে অসম্পূর্ণ তথ্য
-
ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে অস্পষ্টতা
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ঘাটতি
এসব কারণ দেখিয়ে প্রাথমিকভাবে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল।
প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রেজাউল করিম নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেন। আপিল শুনানিতে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুনরায় উপস্থাপন করেন এবং যেসব তথ্য নিয়ে আপত্তি উঠেছিল, সেগুলোর ব্যাখ্যা দেন।
শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট হয়ে তার মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাতিলের সময় যেসব ত্রুটি উল্লেখ করা হয়েছিল, সেগুলো আইনগতভাবে প্রার্থিতা বাতিলের জন্য যথেষ্ট নয় বলে বিবেচিত হয়েছে।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর রেজাউল করিম বলেন,
“আমি শুরু থেকেই বলেছি—আমার কাগজপত্রে কোনো ইচ্ছাকৃত ভুল ছিল না। নির্বাচন কমিশন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন আমি পুরোপুরি নির্বাচনী মাঠে থাকবো।”
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে ইতোমধ্যে আপিল ও পাল্টা আপিল চলমান রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ–সোনারগাঁ) আসনটি এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত আসন। দলীয় ও স্বতন্ত্র—উভয় ধরনের প্রার্থী থাকায় এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে। রেজাউল করিমের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় এই আসনের ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের আপিল প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনে আরও কিছু প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে।