নারায়ণগঞ্জের বিসিল শিল্প এলাকায় দূষণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, ইটিপি বন্ধ রাখায় ক্ষোভ মাশুকুল ইসলাম রাজীবের
নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্প এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত দূষণের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব। তিনি জানিয়েছেন, দূষণের ফলে এলাকায় শ্বাসকষ্ট ও ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
ইটিপি বন্ধ রাখা নিয়ে ক্ষোভ
মাশুকুল ইসলাম রাজীব অভিযোগ করেন, অনেক কারখানায় তরল বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) সঠিকভাবে চালু না রেখে লক করে রাখা হয়। এ কারণে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। কারখানা মালিকদের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি বলেন:
“নিয়মটা কেন এমন হবে? যেকোনো মুহূর্তে আমি যেকোনো সময় সেখানে যাব, বাধা ছাড়াই। ইটিপি লক থাকবে কেন?”
তিনি স্পষ্ট জানান, যারা নিয়ম মেনে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তাদের অবশ্যই সম্মান দেওয়া হবে। তবে যারা আইন অমান্য করে পরিবেশ দূষণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও শাস্তির দাবি জানান তিনি।
খালের রক্ষণাবেক্ষণে উদাসীনতা
শিল্প এলাকার দূষণ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, শুধু খাল খনন বা সাময়িক পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, প্রয়োজন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশের খালের উদাহরণ টেনে রাজীব বলেন, “এই খালটি খনন করে পরিষ্কার করা হলো, সাতদিন পরে দেখি আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। আমরা শুধু প্রোগ্রামের সময় পরিষ্কার করছি, পরবর্তীতে রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলোতে উদাসীন হয়ে যাচ্ছি।”
সুনির্দিষ্ট এলাকা মনিটরিংয়ের তাগিদ
কারখানা মনিটরিংয়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, পুরো জেলায় নয়, মূলত সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সমস্যা বেশি। বিশেষ করে কাঠেরপুলে প্রায় ৩০টি এবং জালকুড়িতে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি ফ্যাক্টরি রয়েছে। এই স্পটগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং ও আইনি চাপ প্রয়োগ করলে পরিবেশ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি সম্ভব।
দূষণ রোধে শুধু আইনের প্রয়োগ নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি। নারায়ণগঞ্জকে নিজের শহর মনে করে জনস্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান মাশুকুল ইসলাম রাজীব।
উক্ত সচেতনতামূলক সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।