সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জে এমপিপুত্রই ‘ছায়া এমপি,’ দাপট সর্বত্র
বাবা সরকার–দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি)। তবে পুরো সংসদীয় এলাকায় প্রভাব ছেলের। এলাকায় দলের রাজনীতি থেকে শুরু করে অবৈধ উপার্জনের খাতগুলোর নিয়ন্ত্রকও ছেলে। শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা, উন্নয়নকাজের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, নৌপথ ও পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে একক আধিপত্য গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।
যাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ, তিনি হলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীব। তাঁকে গত রোববার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করেছিল। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়েও দেওয়া হয়। ‘বেশ কিছু অভিযোগের’ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়ছিল।
‘এমপিপুত্র’ সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। আটকের পর গত রোববার তাঁকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পুলিশ বা সংগঠনের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ ও অনিয়মের কথা প্রকাশ করা হয়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জের বড় অংশজুড়ে থাকা শিল্পকারখানাগুলোকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করেই সজীবকে আটক করা হয়েছে। একাধিক বড় শিল্পের মালিকও প্রথম আলোকে একই অভিযোগের কথা জানিয়েছেন।
এমপিপুত্রের প্রভাববলয়ের বিষয়ে কয়েক দিন ধরে সরেজমিন ও বিভিন্ন সূত্র থেকে খোঁজখবর করেছেন এই প্রতিবেদকেরা। এ সময় সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ২৫ জন নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা হয়। নিরাপত্তার কারণে তাঁদের অধিকাংশই পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, খাইরুল ইসলাম সজীবকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। বাবা এমপি হলেও তিনি সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জে ‘ছায়া এমপি’ হয়ে উঠেছেন। তাঁর আটকের খবরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু পরে ছেড়ে দেওয়ায় অনেকে বিস্মিত হয়েছেন।
তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি মনে করে তিনি কোনো ফৌজদারি অপরাধে জড়িত, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।