ফতুল্লায় বড় ঝাঁকুনি! মোহাম্মদ আলীর মনোনয়ন স্থগিত, বাতিল ৫, বৈধ ৯—ভোটের মাঠে কারা টিকলেন?
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার ফতুল্লা অঞ্চল নিয়ে গঠিত এই আসনের জন্য জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে এ আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
যাদের মনোনয়ন বৈধ
যাচাই–বাছাই শেষে যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তারা হলেন—
-
মনির হোসাইন কাসেমী — বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব
-
মোহাম্মদ শাহ আলম — স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি
-
মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন — স্বতন্ত্র প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি
-
আব্দুল্লাহ আল আমিন — জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
-
সেলিম মাহমুদ — বাসদ
-
মুফতি ইসমাইল কাউসার — ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
-
আনোয়ার হোসেন — বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
-
ইলিয়াস আহম্মেদ — খেলাফত মজলিশ
-
মো. সুলাইমান দেওয়ান — বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)
এই নয়জন প্রার্থী আপাতত ফতুল্লায় ভোটের মূল প্রতিযোগিতায় থাকছেন।
যাদের মনোনয়ন বাতিল
মনোনয়ন যাচাই–বাছাইয়ে ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন—
-
ইকবাল হোসেন — বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি
-
মো. আরিফ ভূইয়া — গণঅধিকার পরিষদ
-
মো. ছালাউদ্দিন খোকা — জাতীয় পার্টি
-
ফাতেমা মনির — স্বতন্ত্র প্রার্থী, সদর উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান
-
মো. সেলিম আহমেদ — বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি
রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে,
-
সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখ না করা,
-
হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকা,
-
তিতাস গ্যাসের বকেয়া বিল,
-
এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যথাযথ না থাকা,
-
হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা
—এইসব কারণে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
মোহাম্মদ আলীর মনোনয়ন কেন স্থগিত
বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর মনোনয়নপত্র আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। রিটার্নিং অফিস সূত্র জানায়, ফতুল্লায় তার মালিকানাধীন একটি রি-রোলিং মিলের বিপরীতে তিতাস গ্যাসের প্রায় ১৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা বকেয়া থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে মোহাম্মদ আলীর আইনজীবীরা উচ্চ আদালতের একটি রায় উপস্থাপন করায় তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিকেল ৪টার মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
ফতুল্লায় ভোটের সমীকরণ
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক শক্তিশালী দল ও প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতিতে এখানে ভোটের লড়াই বরাবরই উত্তপ্ত। মোহাম্মদ আলীর মনোনয়ন স্থগিত এবং পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায়—
-
ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
-
স্বতন্ত্র ও জোট প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা
এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, মনোনয়ন যাচাই–বাছাই শেষে ফতুল্লা আসনের নির্বাচনী উত্তাপ নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন নজর থাকবে মোহাম্মদ আলীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর শেষ পর্যন্ত কারা মাঠে থাকছেন, সে দিকেই।