বিবাহবার্ষিকীর দিনেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড: ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা
বিবাহবার্ষিকীর দিনেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড: ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের চরম বিপর্য়ের দিন আজ সোমবার ১৭ নভেম্বর। একদিকে ব্যক্তিগত জীবনে আজ তাঁর আনন্দের দিন-বিবাহবার্ষিকী। কিন্তু ইতিহোসের নির্মম পরিহাস এমন আনন্দের দিয়ে তাকে মৃত্যুতন্ড দেয়া হলো। আজ তার থাকার কথা দলীয় নেতাকর্মীদের আনন্দ ও শুভেচ্ছায় মুখর পরিবেশে। কিন্তু এবার সে সৌভাগ্য তার কপোলে জোটেনি। ববরং তাকে আজ শুনতে হলো জীবনের সবচেয়ে করূণ এবং কঠিন কথা - ফাসিতে ঝুলে মৃত্যুদন্ডে কার্কর করার শাস্তির কথা।
আজ সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করেন। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট মাসে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড, চানখাঁরপুলে গুলিবর্ষণ এবং আশুলিয়ায় লাশ পুড়িয়ে ফেলার মতো পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে পলাতক থাকায় তাঁদের অনুপস্থিতিতেই এই রায় ঘোষিত হয়। ৩৯৭ দিনের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই রায় এল।
ভিন্ন প্রেক্ষাপট: বিবাহবার্ষিকীর স্মৃতি
কাকতালীয়ভাবে, আজকের দিনটি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৭ সালের এই দিনে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। দীর্ঘ পাঁচ দশকের দাম্পত্য জীবনে ড. ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন তাঁর নীরব সহযোদ্ধা। রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনার ব্যস্ততম সময়েও ড. ওয়াজেদ মিয়া পরিবারের হাল ধরে রেখেছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আজকের এই দিনটিতে গণভবন ও দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভিড় থাকত, চলত শুভেচ্ছা বিনিময়। শেখ হাসিনা প্রায়ই বলতেন, পরিবারের শক্তিই তাঁকে জনগণের জন্য কাজ করার প্রেরণা দেয়। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, আজ সেই দিনটিতেই তিনি দেশত্যাগী এবং আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
রাজনীতির ইতিহাসে আজকের দিনটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। যে দিনটি ছিল ব্যক্তিগত জীবনের উদ্যাপনের, সেই দিনটিই পরিণত হলো আইনি বিপর্যয়ের দিনে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের মধ্য দিয়ে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি বড় ধাপ সম্পন্ন হলো, আর একই সঙ্গে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের এক করুণ অধ্যায় রচিত হলো।
Words: 335 | Characters: 2328