দেওভোগ মাদ্রাসায় দলীয় প্রভাব পরিহার ও মুশাওয়ারার আহ্বান মাওলানা আব্দুল আউয়ালের
নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল আউয়াল দেওভোগ মাদ্রাসার চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মাদ্রাসা পরিচালনায় সব ধরনের দলীয় প্রভাব পরিহার করে আলোচনার (মুশাওয়ারা) ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের আগে দেওয়া খুতবা ও আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আব্দুল আউয়াল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আওয়ামী লীগ বুঝি না, বিএনপি বুঝি না, জামায়াত বুঝি না, শিবির বুঝি না, খেলাফত বুঝি না—কোনো রাজনৈতিক প্রভাব মাদ্রাসায় থাকা উচিত নয়। দেওভোগ মাদ্রাসা একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত মুশাওয়ারার (পরামর্শ) ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন।"
তিনি উল্লেখ করেন, দেওভোগ মাদ্রাসা নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যের অংশ। তাই এই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কথা বলার অধিকার নারায়ণগঞ্জবাসীর রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে শহরের অভিজ্ঞ, জ্ঞানী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। দলীয় প্রভাবের কারণে দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই কোনো অবস্থাতেই দলীয় বিবেচনায় মাদ্রাসা পরিচালনা করা ঠিক হবে না।
খুতবায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কাশীপুর মাদ্রাসা ও দেওভোগ মাদ্রাসা—নারায়ণগঞ্জের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যথিত করার মতো। এ সময় তিনি দেওভোগ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা রেজাউল করিমের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন, কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে বিদায় নিতে পারেননি।
মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি প্রসঙ্গে আল্লামা আব্দুল আউয়াল বলেন, কমিটির সদস্যদের নিজেদের দায়িত্ব ও জ্ঞান সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আলেমদের সঙ্গে কাজ করতে হলে তাঁদের কথা বোঝার এবং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুধাবনের সক্ষমতা তাঁদের থাকতে হবে।
সমাজের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের পরামর্শ অনুসরণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।