সিদ্ধিরগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ১৩০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১২
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৩০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আজ শনিবার (২৭ জুন) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শাহ আলম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর ৬, ১০, ১১ ও ১২ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক ইউটার্ন এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা গোপনে জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং দেশের অখণ্ডতা, সংহতি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে আটক করে। পরে তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে পাঁচটি উসকানিমূলক পোস্টার জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্য আসামিরা কৌশলে পালিয়ে যান।
মামলায় নাম উল্লেখ করা প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ড, দনিয়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাসরিফ আল নোমান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শিব্বির, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজু এবং থানা তাঁতি লীগের সভাপতি লিটন ওরফে গুজা লিটনসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।"