লিংক রোডে কালেমার পতাকা: জামায়াতের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে (লিংক রোড) সাদা কাপড়ে কালো রঙে আরবি অক্ষরে কালেমা লেখা পতাকা লাগানোর ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কেউ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জড়িত নন বলে জানিয়েছেন দলটির নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার।
সোমবার (২৯ জুন) রাতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই দাবি করেন। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের সড়কসহ দেশের কিছু এলাকায় এ ধরনের পতাকা লাগানোর ঘটনাকে তারা প্রশংসার নজরে দেখলেও, এই কার্যক্রম দলটির কোনো কর্মসূচির অংশ নয়।
ভিডিও বার্তায় জামায়াতের এই নেতা বলেন, “নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে কালিমার পতাকা উত্তোলন করতে দেখছি। কিছু ছাত্র ও যুবক ভাইয়েরা এটি উত্তোলন করছেন। অনেকে এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—এটি জামায়াতে ইসলামী করছে কিনা। কালেমার পতাকা শুধু জামায়াতে ইসলামীর সম্পদ নয়, বরং এটি পৃথিবীর সকল মুসলমানের সম্পদ।”
বর্তমান প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, “বর্তমানে সারাদেশে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে এক ধরনের উন্মাদনা চলছে এবং অনেকেই এসব দেশের পতাকা উড়াচ্ছেন। অনলাইন মিডিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্র ও যুবকদের বলতে শুনেছি, অন্যান্য দেশের ইহুদিদের পতাকার বিপরীতে আমরা কালিমার পতাকা উত্তোলন করছি। কেউ যদি কালেমাকে ভালোবেসে এই পতাকা উত্তোলন করে, তবে আমরা অবশ্যই সেটিকে সাধুবাদ জানাই। তবে, প্রশাসনসহ কেউ কেউ এটিকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন বলে মনে হচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এটি প্রশাসনের বিষয়। আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি, আমরা ইসলামকে ভালোবাসি। মানুষ ইসলামকে ভালোবেসে কালেমার পতাকা উত্তোলন করতেই পারে। তবে এটি জামায়াতে ইসলামীর কোনো ঘোষিত কর্মসূচি নয় এবং দলের কোনো নেতাকর্মী সেখানে ঘোষণা দিয়ে সম্পৃক্ত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।”
একটি অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে মহানগর আমীর বলেন, “বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। এখানে ধর্মীয় কোনো বিদ্বেষ আমরা কামনা করি না। যার যার ধর্ম সে স্বাধীনভাবে পালন করবে। তবে যেহেতু প্রধানত ধর্ম ইসলাম, ইসলামের অবমাননা এখানে কেউ সহ্য করবে না।”
মহানবী (সা.)-এর আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মহানবী (সা.) ও তাঁর আদর্শ নিয়ে অনেকে অনেক সময় ব্যাঙ্গাত্মকভাবে কটূক্তিমূলক বক্তব্য রেখে থাকেন। আমরা এগুলোর ব্যাপারে সবসময় সোচ্চার। সমাজে ইসলামের সুমহান আদর্শ পুরোপুরি চালু হলে সর্বস্তরের অনাচার ও অবিচার দূর হবে এবং একটি শান্তিময়, সুখী সোনার বাংলাদেশ ও সোনার পৃথিবী গড়ে উঠবে।”