গোগনগরে স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: দারোয়ান আটক, এলাকায় চরম উত্তেজনা
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দারোয়ানের বিরুদ্ধে এক ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠানের ভেতর তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় অভিযুক্ত দারোয়ানকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। এর আগেও বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত দারোয়ান তাকে যৌন নিপীড়ন করলেও ভয়ে বা লোকলজ্জার কারণে সে পরিবারকে কিছু জানায়নি। তবে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থীকে পুনরায় নিপীড়ন করার সময় একজন অভিভাবক তা হাতেনাতে দেখে ফেলেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দাবি করেন। তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের পরিবর্তে ধামাচাপা দেওয়ার এবং আপস-মিমাংসার চেষ্টা চালায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের সাথে অতীতে ঘটা একই ধরণের আচরণের অভিযোগ তুলতে শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এলাকাবাসী স্কুলের ভেতরেই বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভের কারণে দীর্ঘ সময় স্কুলের ভেতর অবরুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ ও র্যাবের বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রায় কয়েক ঘণ্টা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করার পর, সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযুক্ত দারোয়ানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর এক ভাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার বোন কিছুটা অ্যাবনরমাল (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন)। এর আগেও তার সাথে এমন ঘটনা ঘটলেও সে কাউকে জানায়নি। আজ আমরা জানার পর শিক্ষকদের জানালে তারা বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই সময় আরও কয়েকজন অভিভাবক একই অভিযোগ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পরে পুলিশ ও র্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সন্ধ্যায় ওই দারোয়ানকে আটক করে।"
এই ঘটনায় পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, "আমরা এখনো থানার পথে আছি। অভিযুক্তকে থানায় নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করে পরে জানানো হবে।"