সুবিধাবাদী বা চাঁদাবাজদের বিএনপিতে প্রার্থীর সুযোগ নেই: সাখাওয়াত হোসেন খান
আসন্ন স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা) নির্বাচনে বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কোনো সুবিধাবাদী ও চাঁদাবাজকে সুযোগ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এবার প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচটি বিশেষ যোগ্যতা বিবেচনায় আনা হবে বলেও জানিয়েছেন মহানগরের শীর্ষ এই নেতা।
শনিবার (২০ জুন) সকালে সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকায় আয়োজিত একটি বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আগামী স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে যাদের জনপ্রতিনিধি বা প্রার্থী হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে, তাদের অবশ্যই বিগত ১৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে হবে। এছাড়া মাঠে-রাজপথে দলের জন্য কাজ করা, জেল-জুলুম, নির্যাতন ও মামলা-মোকদ্দমার শিকার হওয়া, সুখে-দুঃখে নেতা-কর্মীদের পাশে থাকা এবং স্থানীয়ভাবে পরিচ্ছন্ন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করার মতো যোগ্যতা থাকতে হবে।”
তিনি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মাদক বা চাঁদাবাজির অভিযোগ ও মামলা রয়েছে, এমন কাউকেই বিবেচনায় নেওয়া হবে না। এই পাঁচটি শর্তের ভিত্তিতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থী নির্বাচন করবেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর হঠাৎ করে যারা বড় বিএনপি নেতা বনে গেছেন, তাদের কোনোভাবেই মূল্যায়ন করা হবে না। এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন। কোনো সুবিধাবাদীকে সুযোগ দেওয়া যাবে না এবং তাদের ভোটও দেওয়া যাবে না। আগামীতে এমন প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হবে, যিনি এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে জেলা নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রীদের কাছে জোরালোভাবে দাবি উত্থাপন করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন।”
দলের শৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের পরিণতি সবাই দেখেছে। আজ তাদের কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্ব নেই। দলের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা ব্যক্তিদের আর দলে মূল্যায়ন করার সুযোগ নেই।”
উক্ত মেডিকেল ক্যাম্পের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
উল্লেখ্য, আলীরটেকে আয়োজিত এই বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পে এলাকার প্রায় ৩০০ জন চোখ ও ছানি আক্রান্ত রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।