মেঘনা নদীর পানি শোধন করে সরবরাহ করা হবে ঢাকায়: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
ঢাকার ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটাতে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ক্ষতিকর নির্ভরতা কমাতে মেঘনা নদীর পানি পরিশোধন করে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুরে ঢাকা ওয়াসার ‘দাশেরকান্দি ও সাভার-রূপগঞ্জ পানি সরবরাহ’ (DESWSP) প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন দৈনিক ৫০ কোটি লিটার সক্ষমতার পানি শোধনাগার (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি প্রকল্প সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রকল্পটির বাস্তব নির্মাণকাজ ঘুরে দেখেন মন্ত্রী।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় মেগা প্রকল্প
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, “এতদিন ঢাকা শহরের জন্য আমরা মূলত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করতাম। কিন্তু অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় এক হাজার মিটার পর্যন্ত নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা একটি ভয়াবহ পরিবেশগত পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। সেই সংকট মোকাবিলায় মেঘনা নদীর পানি পরিশোধন করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে সরবরাহ করার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
আগামী এক বছরের মধ্যে চালুর আশা
প্রকল্পের অগ্রগতি ও ব্যয় সম্পর্কে তথ্য দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পের কাজ এখন একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এর যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে এটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
দৈনিক ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের পরিকল্পনা
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “এই প্রকল্প চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে এখানেই শেষ নয়, একই ধরনের আরও একটি নতুন প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। সেটি বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত আরও ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে। অর্থাৎ, দুটি প্রকল্প মিলিয়ে ভবিষ্যতে প্রতিদিন মোট ১০০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি ঢাকার দুই সিটিতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”
পরিদর্শনকালে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশলীবৃন্দ এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।