বাজেটে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি
'বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিবন্ধন নীতিমালা সহজ ও সরকারি সহায়তার বিকল্প নেই'
আসন্ন জাতীয় বাজেটে দেশের প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম চালিকাশক্তি কিন্ডারগার্টেন স্কুল এবং শিক্ষকদের জন্য বাস্তবমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি স্কুল (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষক সমিতি। বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে আগামী বাজেটকে ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
বেসরকারি স্কুল (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও এনায়েতনগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাওসার মাহমুদ এক বিবৃতিতে এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের হাজার হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে লক্ষাধিক শিক্ষক অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, প্রাথমিক শিক্ষার এক বিশাল অংশ এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভরশীল হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা বৈষম্য ও অবহেলার শিকার। এখানকার অধিকাংশ শিক্ষকই বর্তমানে নামমাত্র বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী জাতীয় বাজেটে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের জন্য বিশেষ বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিটি কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠানের অন্তত তিনজন শিক্ষককে সরকারি আর্থিক সহায়তার আওতায় এনে, পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সকল শিক্ষককে এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে শিক্ষক নেতা কাওসার মাহমুদ বলেন, বর্তমান যুগের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার ব্যবস্থা করতে পৃথক বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি।
বিবৃতিতে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোকে আলাদা বা দ্বিতীয় শ্রেণির প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার মানসিকতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি—সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে এই প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন পর্যায়েই।
এ ছাড়া, বর্তমান কিন্ডারগার্টেন নিবন্ধন নীতিমালার কঠোর ও জটিল শর্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মুখে পড়ছে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠান যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে নিবন্ধন নীতিমালা আরও বাস্তবসম্মত, সহজ ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার দাবি জানানো হয়েছে।
শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টেকসই উন্নয়ন এবং একটি বৈষম্যহীন ও শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থা বিনির্মাণে আসন্ন বাজেটে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় কিন্ডারগার্টেন স্কুল পরিবার।