নগরের বাইরে
সিদ্ধিরগঞ্জে অপহৃত ২ শিশু উদ্ধার: সন্তানদের বিক্রি করতে চেয়েছিল জুয়াড়ি বাবা, নারীসহ গ্রেফতার ৩
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি বুকস গার্ডেন এলাকা থেকে অপহৃত দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলা। এ ঘটনায় মানব পাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) পিবিআই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
পিবিআই জানায়, গত ১৮ মে গভীর রাতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তির টিএনটি গেট এলাকা থেকে এমদাদুল হক রাব্বানী (২৩)কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিন (২৯)কে আটক করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে অপহৃত ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ১৩ মে রাতে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার নিঝুমনিবাস এলাকা থেকে পাঁচ বছর বয়সী অপর শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশু দুটির পিতা মেজবাহ উদ্দিনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাত বছর আগে ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মেজবাহ উদ্দিন বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করতেন। পাশাপাশি স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করতেন এবং টাকা না দিলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দিতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ এপ্রিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে সহযোগী এমদাদুল হক রাব্বানীর সহায়তায় দুই সন্তানকে বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যান মেজবাহ উদ্দিন। পরে ভুক্তভোগী মা বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারেন, শিশু দুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরপর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সক্রিয় মানব পাচার চক্রের সদস্য। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে শিশু সংগ্রহ করে পাচার করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, মেজবাহ উদ্দিন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং অর্থের বিনিময়ে নিজের সন্তানদের বিক্রির পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।
আদালত গ্রেফতারকৃত এমদাদুল হক রাব্বানীর পাঁচ দিনের এবং নুর-ই-নাসরিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। অন্যদিকে মেজবাহ উদ্দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
পিবিআই জানিয়েছে, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং আরও পাচার হওয়া শিশুদের উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।