নগরের বাইরে
আড়াই বছর পর ফতুল্লার বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ৬
দীর্ঘ আড়াই বছর পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চাঞ্চল্যকর বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামিসহ দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (১৭ মে) পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফতুল্লা থানায় দায়ের করা এই হত্যা মামলার আসামিদের শনাক্ত করা হয়।
মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিহত আতিকুল ইসলাম ফতুল্লার আলীগঞ্জ কাজীপাড়া বাজারে বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করতেন। ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর সকালে আলীগঞ্জ এলাকার আরেক বিকাশ ব্যবসায়ী আলী সম্রাট আতিকুলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। ওই দিন রাতেই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে আতিকুলকে আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে আতিকুল তার বন্ধু মাসুম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। একপর্যায়ে বন্ধু মাসুম কিছু সময়ের জন্য সেখান থেকে চলে গেলে আতিকুল নিখোঁজ হন। এর দুই দিন পর, ১১ নভেম্বর সকালে আলীগঞ্জ রেললাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিনের মাছের খামারের পুকুর থেকে আতিকুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আলী সম্রাট প্রথমে ধার নেওয়া ৫০ হাজার টাকা আতিকুলকে ফেরত দেন। এরপরই সেখানে ওত পেতে থাকা আসামিরা ওই টাকা ও আতিকুলের কাছে থাকা অন্যান্য অর্থ ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাইয়ের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আতিকুলের পেট, বুক ও ঘাড়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গত ১৩ মে ভোরে ফতুল্লার আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি শান্ত হোসেনকে (২৭) গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ মে রাতভর অভিযান চালিয়ে ফতুল্লা ও আশপাশের এলাকা থেকে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আহাদ আলী (২৩), রুবেল (৩২), আশিক (২৩), জুম্মন (২৩) ও জাহিদ হাসান শুভ (২৫)।
পিবিআই জানিয়েছে, প্রধান আসামি শান্ত হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া রিমান্ডে থাকা অন্য আসামিদের মধ্যে আহাদ আলীও আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার বাকি তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।