নগরের বাইরে
ফতুল্লায় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা: শরীয়তপুরের চরাঞ্চল থেকে বড় ভাই গ্রেফতার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাড়ির দলিল নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাই মো. রাফি ওরফে মোহনকে (৩৪) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই উজ্জল মিয়াকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৬ মে) রাতে শরীয়তপুরের একটি চরাঞ্চল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত উজ্জল ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ চতলার মাঠ সোনার বাংলা রোড এলাকার ফাজিলপাড়ার মো. বাবুল মিয়ার ছেলে। অন্যদিকে নিহত মোহন পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত উজ্জল মিয়া পেশায় অটোরিকশাচালক এবং মাদকাসক্ত। তিনি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে তার বাবার কাছে বাড়ির দলিল দাবি করে আসছিলেন। বাবা দলিল দিতে রাজি না হওয়ায়, ছোট ভাই মোহনকে মধ্যস্থতাকারী বানিয়ে দলিল হাসিলের চেষ্টা করেন উজ্জল। এই দলিল কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের জেরে দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ির দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় মোহনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান উজ্জল। তিনি ধারালো বটি দিয়ে মোহনের মাথার দুই পাশে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
মোহনের চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও নিচতলার ভাড়াটিয়ারা এগিয়ে এলে উজ্জল ঘটনাস্থলেই রক্তমাখা বটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় মোহনকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সকাল ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহত ও অভিযুক্তের বাবা মো. বাবুল মিয়া বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসামি উজ্জল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয়ে শরীয়তপুরের একটি দুর্গম চরাঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে এবং তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।