নগরের বাইরে
রূপগঞ্জে পুলিশি অভিযানে আসামি ছিনতাই ও হামলা: ১৩ জন গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি’র যৌথ অভিযানে এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৫ মে) ভোররাত ৫টার দিকে সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) জনাব মোঃ মেহেদী ইসলাম এবং রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.এইচ.এম সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অস্ত্র আইনের মামলার পলাতক আসামি মোঃ শামীম মিয়াকে (৪০) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামিকে নিয়ে থানায় ফেরার পথে স্থানীয় ৮ নং ওয়ার্ড এলাকায় ১৫০-২০০ জনের একটি সশস্ত্র দল পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ বা গণজমায়েত সৃষ্টি করে পুলিশের গতিরোধ করে। হামলাকারীরা রাম-দা, লোহার পাইপ, ছোরা ও লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের সরকারি গাড়িতে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে। ধস্তাধস্তি ও হামলার একপর্যায়ে তারা গ্রেপ্তারকৃত আসামি শামীম মিয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই হামলায় অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন।
ঘটনার পরপরই রূপগঞ্জ থানা পুলিশ, পুলিশ লাইন্স থেকে আসা অতিরিক্ত ফোর্স, র্যাব ও বিজিবি সমন্বয়ে ওই এলাকায় একটি সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। অভিযানে আসামি ছিনতাই ও হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশের ওপর হামলা এবং আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জনসহ মোট ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মূল আসামি শামীম মিয়াসহ পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে এলাকায় এখনো পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।