মহানগর
নারায়ণগঞ্জ শহরে হকারমুক্ত ফুটপাত: দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান
নারায়ণগঞ্জ নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে শহরবাসী। হকারমুক্ত ফুটপাত এবং যানজট নিরসনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের যৌথ উদ্যোগ নগরজীবনে নতুন গতির সঞ্চার করেছে।
কার্যকর পদক্ষেপ: গত ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানের ফলে শহরের প্রাণকেন্দ্র বঙ্গবন্ধু সড়কসহ এর আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো হকারমুক্ত হয়েছে।
যানজট নিরসন: ফুটপাত দখলের দৌরাত্ম্য কমায় সড়কের শৃঙ্খলা ফিরেছে, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শহরের যানজট পরিস্থিতির ওপর।
অব্যাহত নজরদারি: উচ্ছেদের পর গত দশ দিন ধরে নাসিকের উচ্ছেদ কর্মীরা নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সহায়তা করছে।
অতীতে হকার উচ্ছেদ নিয়ে নানামুখী প্রশাসনিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হলেও এবার চিত্র ভিন্ন। বর্তমান এই সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে রাজনৈতিক ঐকমত্য:
একই লক্ষ্য: বর্তমান সংসদ সদস্য এবং সিটি প্রশাসক—উভয়েই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তারা ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার বিষয়ে একই অবস্থানে রয়েছেন।
যৌথ প্রচেষ্টা: অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নাসিক প্রশাসকের গত ১০ এপ্রিলের বৈঠকের মাধ্যমেই উচ্ছেদ অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যা এই কার্যক্রমকে সফল করতে ভূমিকা রেখেছে।
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ফুটপাত হকারমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।
তৎকালীন স্থানীয় রাজনৈতিক রেষারেষি এবং প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণে বিষয়টি চরম সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছিল। তবে এবার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটেনি।
"দীর্ঘ বছরেও যে সমস্যার সমাধান কেবল সমন্বয়হীনতার কারণে সম্ভব হয়নি, তা এবার করে দেখিয়েছেন এমপি ও প্রশাসক।"—এমনটাই মন্তব্য করছেন সচেতন নগরবাসী।
বর্তমানে নগরবাসীর প্রধান প্রত্যাশা হলো—এই হকারমুক্ত পরিবেশ যেন স্থায়ী হয় এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ফুটপাত জনগণের চলাচলের জন্য সবসময় উন্মুক্ত রাখা হয়।