নরসিংদীতে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কিশোরীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তার বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত কিশোরীর নাম আমেনা আক্তার (১৫)। সে পরিবারের সঙ্গে মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে একটি দল আমেনাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল।
গত বুধবার আমেনার বাবা আশরাফ হোসেন তাকে নিয়ে খালার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে মাধবদীর বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে পাঁচজন যুবক জোরপূর্বক আমেনাকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওই রাতে তাকে পায়নি। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আমেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: এবাদুল্লাহ (৪০), আহম্মেদ আলী মেম্বার (৬৩), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), মো. আইয়ুব (৩০)।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, এজাহারভুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো জেলায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।