শীতলক্ষ্যা গ্রিডে ত্রুটি: সকাল থেকে বিদ্যুৎহীন নারায়ণগঞ্জ, তীব্র গরমে চরম ভোগান্তি
গ্রিড উপকেন্দ্রে ‘লাইন ত্রুটি’র কারণে সকাল থেকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ শহর ও এর আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো গ্রাহক। তবে স্বস্তির খবর এই যে, বিসিক শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
রোববার (৭ জুন) সকাল থেকে ডিপিডিসি নারায়ণগঞ্জ দক্ষিণের আওতাধীন চাষাঢ়া, উকিলপাড়া, গলাচিপা, কালিরবাজার, আমলাপাড়া, টানবাজার ও কাশীপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বেলা তিনটা পর্যন্ত এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কোনো পূর্ব ঘোষণা বা মাইকিং না থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। টানবাজারের ব্যবসায়ী সিজান আহমেদ জানান, সকাল ১০টায় মার্কেটে গিয়ে বিদ্যুৎ না পেয়ে তীব্র গরমে দোকান বন্ধ করে দুপুর ১টায় বাসায় ফেরেন। কিন্তু বাসায় এসেও দেখেন বিদ্যুৎ নেই।
এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় রান্নাবান্না ও পানি সংকটে পড়েছেন গৃহিণীরা। কাশীপুরের বাসিন্দা রেহানা পারভীন জানান, গ্যাস সংযোগ না থাকায় ইলেক্ট্রিক চুলায় রান্না করতে হয় তাদের। সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় বাধ্য হয়ে আজ বাইরের কেনা খাবার খেতে হয়েছে। একই এলাকার বাসিন্দা কুলসুম বেগম বলেন, "রেগুলার লোডশেডিং ভেবে পানি জমা করে রাখিনি। বিদ্যুৎ আসতে দেরি হলে এখন পানির তীব্র সংকটে পড়তে হবে।"
এ বিষয়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) নারায়ণগঞ্জ দক্ষিণের প্রধান প্রকৌশলী কামাল হোসেন জানান, শীতলক্ষ্যা ১৩২ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে 'লাইন ত্রুটি' দেখা দেওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, "এই কেন্দ্রটি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর আওতাধীন। ত্রুটির কারণে এই কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা সব এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে। পিজিসিবি যখন ত্রুটি মেরামত শেষ করবে, তখনই সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে কখন নাগাদ কাজ শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে এখনো কিছু জানানো হয়নি।"
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুতের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন বিসিক জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন। সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কর্মীরা লাইন মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দ্রুত সরবরাহ সচল করার চেষ্টা চলছে।