আন্তর্জাতিক
জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ গড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র:
জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ গড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও ‘বন্ধুত্ব’ গড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ঢাকায় নিযুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিক ও কয়েকজন নারী সাংবাদিকের কথোপকথনের একটি অডিওর বরাত দিয়ে এই খবর জানানো হয়।
প্রতিবেদনের মূল পয়েন্টগুলো:
বন্ধুত্বের লক্ষ্য: ওই অডিওতে মার্কিন কূটনীতিককে বলতে শোনা যায়, বাংলাদেশ বর্তমানে ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকেছে এবং আগামী নির্বাচনে জামায়াত বড় সাফল্য পেতে পারে। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র দলটির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়।
কূটনৈতিক যোগাযোগ: ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ওয়াশিংটন ও ঢাকায় জামায়াত ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। এমনকি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির সঙ্গেও দলটির ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে।
শরীয়াহ আইন ও অর্থনীতি: কূটনীতিক জানান, জামায়াত শরীয়াহ আইন চালু করবে না বলেই তারা মনে করেন। তবে তেমনটি করা হলে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপসহ কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল।
অন্যান্য দল: জামায়াত ছাড়াও হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
ভারত প্রসঙ্গ: দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, কারণ ভারত জামায়াতকে নিরাপত্তার হুমকি মনে করে।
হাসিনার বিচার: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করার বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিকভাবে জিনিয়াস’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ওই কূটনীতিক।
মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই জানিয়েছেন, এটি একটি নিয়মিত বৈঠকের অংশ ছিল, যা সাধারণত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।